আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মির্জাপুরে বন্যাকবলিত অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

news-image

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যায় পৌরসভাসহ আট ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তা ডুবে বেশ কয়েকটি এলাকায় সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরফলে বন্যাকবলিত পরিবারগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। যোগাযোগের জন্য নৌকা ও ভেলাই একমাত্র ভরসা বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে।

উপজেলার পাহাড়পুর-বুধিরপাড়া এবং ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি রাস্তা ডুবে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ফতেপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বানাইল, ওয়ার্শি, আনাইতারা, বহুরিয়া ও লতিফপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে।
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন জানান, পৌরসভার মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, আলহাজ্ব শফিউদ্দিন মিঞা এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ, আলহাজ্ব শফিউদ্দিন মিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গোড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল এন্ড কলেজ, কদিমধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আগধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিবিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘুগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মারিশনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উফুলকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক বিদ্যালয়ে বন্যাকবলিত হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে।

কদিমধল্যা-বরাটি রাস্তা, শুভুল্যা-বরাটি রাস্তা, পাহাড়পুর-বুধিরপাড়া, ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তা, ফতেপুর-বাসাইল রাস্তা, মহেড়া-বিলপাড়া রাস্তাসহ বেশ কয়েকটি রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমহজাদ হোসেন জানান, টানা বৃষ্টি ও নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাওড়া-কামারপাড়া এবং পাহাড়পুর-বুধিরপাড়া রাস্তা ডুবে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমি, শাকসবজি ও ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
বংশাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই ইউনিয়নের ফতেপুর, থলপাড়া, চাকলেশ্বর, ঘোনাপাড়া, বৈলানপুর, পারদিঘী, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ফসলের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। অপর দিকে গোড়াই, গাড়াইল, ত্রিমোহন, বাওয়ার কুমারজানি, ফিরিঙ্গিপাড়া, যুকিরকোপা, রশিদ দেওহাটা ও কোদালিয়া এলাকায় তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।

একই অবস্থা লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, বহুরিয়া, নাগরপাড়া, ওয়ার্শি ও নওগা বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানিয়েছেন। বন্যার পানিতে ভাঙনের ফলে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর হোসেন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হচ্ছে। সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্টের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। এমপি মহোদয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে সহযোগিতা করা হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দি লোকজনের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের সহযোগিতা করা হবে।’

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত কমেছে

ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, আতঙ্কে উপকূলবাসী

শেখ হাসিনা শিশু পার্কের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু

দুর্নীতি দমনে পিছু হটব না : বিআরটিসির চেয়ারম্যান

আপত্তিকর ভিডিও, মামলা না নেওয়ায় আত্মহত্যার হুমকি স্কুলছাত্রীর

হবিগঞ্জে দখল-দূষণে হুমকির মুখে নদ-নদী

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’, দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা

সিংগাইরে এক দিনে পৃথক স্থান থেকে ২ জনের লাশ উদ্ধার

কুয়েতে প্রবাসী সংবাদকর্মীদের ফুটবল টিম গঠন

২০০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় আবারও তলব জ্যাকলিনকে

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৪৫ অভিবাসী ১৪ দিনের রিমান্ডে

নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরী রানীর বাড়িতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত