আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মৃত্যু ডেকে আনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

news-image

দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন। করোনা মহামারি সেই পরিস্থিতিকে আরও তীব্রতর করে তুলছে। সোমবার (১৭ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন তথ্য দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় জীবনের ক্ষয় নিয়ে এই প্রথমবারের মতো কোনো জরিপ পরিচালিত হয়েছে। ইনভায়রনমেন্ট জার্নালের নিবন্ধে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে সাত লাখ ৪৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে স্ট্রোক ও হৃদরোগে। ২০০০ হাজার সালের তুলনায় যা অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিচালক মারিয়া নেইরা বলেন, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করলে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, এই তথ্য বলে দিচ্ছে, শ্রমিকদের জন্য আরও সুরক্ষা ও পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা যৌথভাবে গবেষণাটি করেছে। এতে দেখা গেছে, দীর্ঘ কর্মঘণ্টার সবচেয়ে বেশি শিকার পুরুষ, মধ্যবয়সী ও বেশি বয়সীরা।

চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৯৪টি দেশের তথ্য নিয়ে এই গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময়ে কাজ করলে স্ট্রোকে ৫৫ শতাংশ আর হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি থাকে। সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ কর্মঘণ্টার সঙ্গে এই তুলনা করা হয়েছে।

করোনায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা দাবি করেন।

সংস্থাটির কর্মকর্তা ফ্র্যাংক পেগা বলেছেন, আমাদের কাছে থাকা কিছু প্রমাণ বলে রাষ্ট্রগুলো জাতীয়ভাবে লকডাউনে যাওয়ার পর থেকে কাজের সময় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

কাজ সম্পর্কিত সব রোগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা দায়ী বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। তাদের কর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি মুল্যায়নকালে নিয়োগকর্তাদের এই বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এক্ষেত্রে দৈনিক কাজের সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলে ফ্র্যাংক পেগা আরেকটি গবেষেণার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন, যাতে কর্মঘণ্টা কম হলে কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়।