আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মৎস্য শিকারিদের হঠকারিতা আর জিও ব্যাগ লোপাটের কারণে উপজেলা রক্ষা বাধে ধ্বস

news-image

মৎস্য শিকারিদের হঠকারিতা ও নিয়মিত উৎপাতে হুমকিতে পড়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পদ্মা ভাঙ্গন রক্ষা বাঁধ। উপজেলার বয়রা, হারুকান্দি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮ কি.মি এলাকায় ফ্লাড এ্যান্ড রিভার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় পদ্মার বামতীরে পদ্মা ভাঙ্গন রক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়েছে। এ বাঁধের আন্ধারমানিক খালপাড় বয়রা, দাশকান্দি বয়রা, দড়িকান্দি, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর, আলগীচর, জগনাথপুর, রামকৃষ্ণপুর, হারুকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদপুর, হারুকান্দি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ কেটে চায়না দোয়ারি (জাল), সাধারণ দোয়ারি ও জিও ব্যাগে বাঁশ দিয়ে গর্ত করে ভেশাল (মাছ ধরার জাল) স্থাপন করায় বাঁধ চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

এছাড়া পদ্মাপারের কিছু অসচেতন লোকজন বাঁধের জিও ব্যাগ কেটে ফসলের পালা ঢেকে রেখেছে, কেউ বাড়িতে ব্যবহার করছে, কেউ মৎসাশিকারে ব্যবহার করছে,কেউ আবার নৌকার ছই এর কাজে ব্যবহার করছে।

এরই মধ্যে বাঁধের আন্ধারমানিক বাজার এবং খালপাড় বয়রা এলাকায় হরিরামপুর রক্ষা বাঁধের কয়েক জায়গা ধ্বসে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বয়রা, হারুকান্দি এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮ কিমি এলাকার বাঁধ এলাকায় পদ্মায় হাজার হাজার চায়না, সাধারণ দোয়ারি এবং ভেশাল রয়েছে। বাঁধের উপরের জিও ব্যাগে গর্ত করে ভেশালও দিয়েছে।

এম এ রাজ্জাক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিমল সরকার বলেন, কয়েকদিন আগে পদ্মা পাড় ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে জেলেদের অনেকগুলো জিও ব্যাগ কেটে চায়না জাল পেতে রাখতে দেখেছি। পদ্মা ভাঙন রোধের জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। জেলেদের কারণে বাঁধ হুমকির মুখে।

আন্ধারমানিক ট্রলার ঘাটের মাঝি হাশেম জানান, বাঁধের জিও ব্যাগ কেটে চায়না দোয়ারি (জাল), সাধারণ দোয়ারি ও জিও ব্যাগে বাঁশ দিয়ে গর্ত করে ভেশাল (মাছ ধরার জাল) দেয়ায় বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

বয়রা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুর রহমান তুষার ও হারুকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান চুন্নু বলেন, ‘ বাধের বস্তায় গর্ত করে চায়না দোয়ারি এবং ভেশাল দেয়ায় বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বার বার জেলেদের নিষেধ করার পরেও তারা শুনছেন না। গতবছর উপজেলার মাসিক সমন্বয় সভায় প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও জানান তারা।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম মোবাইলে জানান,

বাঁধের জিও ব্যাগ কেটে জাল বেঁধে রেখে জেলেরা মাছ ধরছে এমন খবর জেনেছেন। কিছুক্ষনের মধ্যে এ ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।