আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

news-image

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে শুকনো মৌসুমে জেগে ওঠা চর ও ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন আর বিক্রির মহোৎসবে মেতেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। অবৈধ এ বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও এদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ‘বালু খোকার’ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করতে পারেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে খোকার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতেও নারাজ তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধ বালু ব্যবসায়ী খোকা ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী লোক, তার ভাই সরকারি দলের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও গাবসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এ প্রভাবে এক যুগের বেশি সময় ধরে শীত ও বর্ষা সব মৌসুমে বাংলা ড্রেজার আর মাটিকাটার এক্সক্যাভেটর বসিয়ে দিন-রাত হাজার হাজার ট্রাক বালু বিক্রি করে আসছেন তিনি।

তাদের অভিযোগ, এ বালু উত্তোলন নিয়ে বেশি সমালোচনা শুরু হলে প্রশাসন হঠাৎ লোকদেখানো অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু একদিনের জন্যও এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করতে পারেনি প্রশাসন।

তারা আরও জানান, এটি বাদে আশপাশের সব বিটবালু ঘাট এখন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বালু খোকার অবৈধ বালু উত্তোলনের বিশাল কর্মযজ্ঞ বন্ধ করতে ব্যর্থ প্রশাসন।

সরেজমিন উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কুকাদাইর-জিগাতলা এলাকার যমুনা নদীর অংশে গেলে তাদের কথার সত্যতা মিলে। অবৈধভাবে জেগে ওঠা চর কেটে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছে দেদারসে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে বালুর পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে রীতিমতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেগে ওঠা চর কেটে ফেলায় প্রতি বছরই নদীভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। নিষিদ্ধ বাংলা ড্রেজার বসিয়ে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করায় বর্ষায় নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে ওই এলাকায় প্রবল ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া বালুবাহী ড্রাম ট্রাকগুলো অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাচলের ফলে সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, বেপরোয়া ট্রাক চলাচল করায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ধুলোবালিতে চারপাশ অন্ধকার হয়ে থাকে। গাছ ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বাতাসে উড়া বালু মানুষের চোখ-মুখে গিয়ে ঠাণ্ডাজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া নিকরাইল ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু সেতুর কোলঘেঁষে সারপলশিয়া, সিরাজকান্দী-নেংড়া বাজার, মাটিকাটা, চিতুলিয়াপাড়াসহ ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েটেও চলছে বেপরোয়া বালু বিক্রি। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল তোতার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের কোলঘেঁষে ১০টি পয়েন্টে ঘাট বানিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা।

বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন জাহিদুল ইসলাম খোকা। তিনি বলেন, বালু উত্তোলনের কথা কে আপনাকে বলছে। পত্রিকায় চাকরি করেন তাতে কী। পারলে আপনি নিউজ করেন। কোনো ভয় পাই না। আমার অনুমতি আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, কিছু দিন আগে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে খোকার বালুঘাট থেকে তিন লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে চর ও ফসলি জমি কেটে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়তই এসব অবৈধ বালুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

পদ্মা সেতু: শিল্পের জন্য প্রস্তুত গোপালগঞ্জ

এখন যানবাহনের অপেক্ষায় ফেরি

ফেরিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এলো ছোট গাড়ি

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ

মানিকগঞ্জে পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার

উল্লাসে মেতেছে পদ্মা পাড়ের মানুষ

চার মাস না যেতেই উঠছে ৯ কোটি টাকার সড়কের পিচ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পিঠা উৎসব

নদী ভাঙা মানুষের বিলাপ

সাঁতরে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল কিশোরী

বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা, আর প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু : পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

সেতুর উদ্বোধনে ফায়ার সার্ভিসের শোভাযাত্রা