আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

যশোর থেকে অস্ত্র বেচতে ঢাকায়, ছাত্রলীগ নেতা ধরা

news-image

অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে যশোরের শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসাইনকে তার চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার গভীর রাতে ডিবির গুলশান বিভাগের তিনটি দল রাজধানীর মিরপুর, দারুস সালাম ও গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে ৮টি বিদেশি পিস্তল, ১৬টি ম্যাগজিন, ৮টি গুলি এবং ১টি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তারা।

ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসাইনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, সোনা ছিনতাই, মারামারি ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলাসহ কমপক্ষে আটটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তার চার সহযোগী হলো ইলিয়াস হোসেন, আবদুল আজিম, ফারুক হোসেন ও ফজলুর রহমান। তারা প্রত্যেকেই যশোরের বেনাপোল ও শার্শা থানার বাসিন্দা। বুধবার রাতের অভিযানের বিষয়ে জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ীর একটি সংঘবদ্ধ দল দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা যশোরের বেনাপোল থেকে অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করে সেগুলো সারা দেশে অপরাধীদের কাছে সরবরাহ করছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে বেনাপোল এলাকার কে বা কারা এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তা জানার জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতে থাকে। তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ ধারণা পায়, বুধবার রাতে চোরাকারবারিরা অস্ত্র ও গুলি বিক্রির জন্য প্রাইভেট কার নিয়ে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড হয়ে ঢাকায় ঢুকবে। এ সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের তিনটি দল দারুস সালাম এলাকার দিয়াবাড়ীগামী, বেড়িবাঁধগামী এবং কল্যাণপুরগামী রাস্তায় অবস্থান নেয়। রাত সোয়া ৩টার দিকে গাবতলী ব্রিজের ইউলুপ দিয়ে একটি প্রাইভেট কার দ্রুতগতিতে উত্তর দিকে যেতে থাকে। এ সময় দিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থান নেওয়া গোয়েন্দা দলকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে বলা হয়, অন্য দল দুটি প্রাইভেট কারটির পেছনে ধাওয়া করে। এছাড়া রাস্তায় চলাচলরত গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় জট তৈরি করা হয়। জ্যামে আটকে পড়া গাড়িটিকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘিরে ফেললে চালক এবং পেছনের সিটের একজন লাফিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়।

অভিযানের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাফিজ আক্তার আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের দেহ তল্লাশি করার সময় আকুল হোসাইনের কোমরের পেছনে প্যান্টে গোঁজা এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল এবং কাছে থাকা হ্যান্ডব্যাগে ৫টি বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি ও ৮টি খালি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। এছাড়া আবদুল আজিমের কোমরে গোঁজা অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল এবং ইলিয়াস হোসেনের কোমরে গোঁজা অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়। ছাত্রলীগ নেতা আকুলের পাচারকারী দলের সহযোগী মিলন হোসেন ও প্রাইভেট কারের চালক ফজলুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রের হোতা আকুল নিজে এবং তার বিশ্বস্ত লোকজনের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুইশোর বেশি অস্ত্র আকুল নিজে বিক্রি করেছে।’

অস্ত্র ও সোনা চোরাচালান ছাড়াও আকুলের চক্রের সদস্যরা তক্ষক ও সীমান্ত পিলার নিয়ে প্রতারণা এবং সাপের বিষ, প্রতœতাত্ত্বিক মূর্তি, ইয়াবা ও আইসের কারবার করে আসছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ছাত্রলীগ নেতা আকুল যাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করত তাদের অধিকাংশই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু। তিনি বলেন, ১০ দিন আগেও ঘিবা সীমান্ত দিয়ে বিদেশি পিস্তলের একটি বড় চালান আকুল পাচার করে নিয়ে আসে।