আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

রাজবাড়ীতে নিজেদের মধ্যে বিবাদে খুন হলেন ড্রেজার মালিক

নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় নিজেদের মধ্যে বিবাদের জেরে বিল্লাল হোসেন (৩৫) নামে এক ডেজার মালিক খুন হয়েছেন। রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের জামালপুর নামক এলাকায় সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিল্লাল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর এলাকার আবু বক্করের ছেলে। তারা ভাড়ায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে দিতেন। এ বিষয়ে কালুখালি থানায় একটি মামলা হয়েছ।
সোমবার সকালে বিল্লাল হোসেন ও তার মামা রফিকুল ইসলাম নদীর মধ্যে ড্রেজার চালাচ্ছিলেন। এমন সময় কথিত চরের ইজারাদারের শ্রমিক আনজু ও ইমরান এর মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

ইমরান (২৫) পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চর-আফড়া গ্রামের সোবাহানের ছেলে। আনজু (২৮) পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চর-আফড়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের লিয়াকত বিশ্বাসের ছেলে।

নিহতের মামা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ও আমার ভাগ্নে নদীর মধ্যে ড্রেজারে ছিলাম। এমন সময় আনজু ও ইমরান চরের পারে এসে ডাকতে থাকে আর বলে- নৌকা নিয়ে পারে আয়, আমার ড্রেজারের টলারে উঠবো। পরে আমার ভাগ্নে পারে গেলে আমার ভাগ্নেকে আনজু ও ইমরান দুজন মিলে বৈঠা দিয়ে মারতে মারতে পানিতে ফেলে দেয়। আমি ড্রেজার থেকে দেখে নদীতে সাঁতার দিয়ে পারে আসতে আসতে ওরা পালিয়ে যায়।

চরের অন্য ভেকু ড্রাইভার আতিক হাসান বলেন, আমি চরে ভেকু চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ মারামারি দেখে এগিয়ে আসি। তবে কাছে গেলে ইমরান ও আনজু আমাকে ভয় দেখিয়ে বলেন- কাছে এলে তোকেও মেরে ফেলবো। পরে তারা ওই স্থান থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, ঝামেলার সময় ইজারাদার সাওরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল ও কালুখালি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লাবু চরের উপরে ছিল। বিল্লালকে উপরে আনলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তারা ওই স্থান থেকে চলে যায়।

হামলার ঘটনাস্থল (বালুর চর) নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। বিগত কোনো সময় ওই স্থানে বালু মহাল বলে কোনো চর ছিল না। তবে কালুখালি উপজেলার একমাত্র বালু মহাল সাওরাইল ইউনিয়নের পাতুরিয়া চর এ বছর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লাবু না পাওয়ায় তারা মাধ্যম ব্যবহার করে ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন কয়েক মাস যাবত।