আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে দুর্নীতি দুদকের মামলা থেকে বাঁচতে ব্যাংকে টাকা জমা

news-image

কাজ না করে বিল উত্তোলন করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা থেকে বাঁচতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুকূলে ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা জমা পড়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদসহ আসামিরা এ টাকা জমা দিয়েছেন বলে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে। প্রায় চার মাস আগে টাকা জমা দেওয়া হলেও বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ হয়।
টাকা জমা দেওয়ার সময় আবেদনে একটি মামলার বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই মামলার কারণেই টাকাগুলো জমা দেওয়া হলো। যে মামলার বিবরণে টাকাগুলো জমা দেওয়া হয়েছে তার প্রধান আসামি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও আসামি আছেন বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েকজন ঠিকাদার।

এ মামলার আসামি ১৪ জন। ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঠিক সমপরিমাণ টাকাই জমা দেওয়া হয়েছে। মামলার এক আসামির নাম শওকত আলী। তিনি একজন ঠিকাদার। ব্যাংকে টাকা জমাকারী হিসাবে তার নামই লেখা হয়েছে। তবে শওকতের দাবি, তিনি টাকা জমা দেননি। তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের গ্রেটার রোড শাখায় টাকা জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাখা ব্যবস্থাপক তারিক হাসান। তিনি বলেন, দুদকের একটি মামলার বিবরণ দিয়ে টাকাগুলো জমা করা হয়েছে। জমাকারী হিসাবে শওকত আলী নাম লেখা আছে। কিন্তু আমরা তাকে চিনি না। কাউন্টারে অনেক মানুষই টাকা জমা দেয়, সবাইকে চিনে রাখা সম্ভব নয়। টাকা জমা হওয়ার পর শিক্ষা বোর্ডকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।’

তবে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি কদিন আগে দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টা সম্পর্কে শুনেছি, অফিশিয়ালি কোনো কাগজ পাইনি। কাগজ পেলে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ ২০১৪ সালের ১০ জুলাই শিক্ষা বোর্ডের সচিব হন। এরপর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০১৯ সালের জুনে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় একটি মামলা করে। মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে চারজন ঠিকাদার এবং অন্যরা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ওই মামলায় এরই মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি টাকা ফেরত দিয়ে মামলা থেকে আসামিদের দায়মুক্তির আবেদনও করা হয়েছে। কে আবেদন করেছেন, তা দুদক স্পষ্ট করে জানায়নি। যদিও মামলা বিচারাধীন অবস্থায় টাকা ফেরত দিয়ে দায়মুক্তির সুযোগ নেই। তবে রায়ের সময় আদালত এটি বিবেচনা করতে পারেন।

ঠিকাদার শওকত আলী বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের পাওয়া কয়েকটি কাজ না করেও বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। তবে সব কাজই করা হয়েছিল। এখন কে টাকা ফেরত দিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারব না। আমি টাকা দিইনি।’

সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি অসুস্থ, ঢাকায় থাকি। আমি কোনো টাকা ফেরত দিইনি। কে টাকা জমা দিয়েছেন, তাও জানি না। আসামিরাই দিয়েছে কি না, সেটাও জানি না।’

মামলার আরেক আসামি শিক্ষা বোর্ডের উপ-কলেজ পরিদর্শক নেসার উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘কে টাকা জমা দিয়েছে, তা আমিও জানি না। আমি তো শুধু মামলার দিন আদালতে হাজিরা দিই। করোনার কারণে অনেকদিন হাজিরাও দেওয়া লাগেনি।’