আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

রাতেই গন্তব্যে ফেরার তাড়া

news-image

রাত পোহালেই ‘কঠোর লকডাউনে’ পড়ছে গোটা দেশ। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দের রেশ কাটানোর আগেই গন্তব্যে পৌঁছতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মানুষ। যেকোনোভাবেই ফিরতে হবে গন্তব্যে। রাতের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছতে ঈদের পরদিন (বৃহস্পতিবার) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রতি স্টেশন এলাকায় যেন যাত্রীদের ঢল নামে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় হাজার হাজার যাত্রী। কেউ বা সকালে স্টেশনে দাঁড়িয়ে গাড়ি পেয়েছেন দুপুরে আবার কেউ বা দুপুরে দাঁড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত পাননি কাঙ্ক্ষিত গাড়ি।

যাত্রীর চাপে গাড়িগুলোতে ফিকে হয়ে গেছে স্বাস্থ্যবিধি। অতিরিক্ত ভাড়ায় সিটের চেয়ে অধিক যাত্রী নিয়ে ছুটে চলছে বাস, মাইক্রোবাসসহ সব গণপরিবহন। প্রাইভেট পরিবহনের চলাচলও বেড়েছে কয়েকগুণ। স্টেশন এলাকাগুলোতে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য একটু ব্রেক কষলেই পেছনে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতি, নিমসার, চান্দিনা, মাধাইয়া, কুটুম্বপুর ও ইলিয়টগঞ্জ স্টেশন এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এ সময় ঢাকাগামী যানবাহনের চাপ অনেক বেশি দেখা গেছে। আবার গাড়ির অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন স্টেশন এলাকাও ছাড়িয়ে গেছে। একটি বাস এলেই ভাড়ার তোয়াক্কা না করে গাড়িতে উঠতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। কোনো কোনো বাসে ২-৪টি ফাঁকা আসনে বা গাড়ির ইঞ্জিনের ওপর বসাতে যাত্রী উঠানোর জন্য গাড়ি থামাতেই ভিড় করছেন ২০-৩০ জন।

চান্দিনা স্টেশন এলাকায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী যাত্রী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। ঢাকায় একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করি। মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি এসেছিলাম। আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে ‘লকডাউন’, আর লকডাউনে আমাদের অফিস তো আর বন্ধ হয়নি। বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম।

তিনি আরো বলেন, আমি দুপুর ২টায় স্টেশনে দাঁড়িয়েছি, এখনো (বিকেল সাড়ে ৫টা) বাস পাইনি। সব বাসেই সিটের চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে আসছে। যেগুলো এ স্টেশনে থামছে সবগুলোরই ইঞ্জিনের ওপর সিট। স্ত্রী ও বাচ্চা নিয়ে সেখানে বসাও অসম্ভব। তাই অপেক্ষা করছি।
স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অধিক যাত্রী ও কোনো প্রকার স্যানিটাইজার ছাড়া গাড়িতে যাত্রী উঠানো সম্পর্কে বাসচালকদের সাথে কথা বলতে চাইলে অধিকাংশ চালকই মন্তব্য করতে রাজি হননি। আবার কেউ কেউ অনেকটা রেগে গিয়ে বলেন, ‘আরে ভাই, এখন রাখেন। দেখছেন না গাড়ি থামাইলে যাত্রীরা কিভাবে তাড়াহুড়া কইরা উঠতাছে, আমরা কী করব।’

হাইওয়ে পুলিশ ময়নামতি ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, আগামীকাল থেকে কঠোর লকডাউন, তাই যাত্রী ও গাড়িচালকরা বেপরোয়া হয়ে আছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমাদের হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।