আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

রেজিস্ট্রেশনের টাকাসহ অধ্যক্ষ উধাও, বিশেষ ব্যবস্থায় ২৫৮ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা

রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ২৫৮ জন শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় দিয়েছেন। রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
কলেজ অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশনসহ সব পাওনা টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কলেজ অধ্যক্ষ আইনুর রহমান শিক্ষা বোর্ডে টাকা জমা না দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে পরীক্ষার আগেই পালিয়ে যান।
পরীক্ষার্থীরা এসব বিষয় জানতেন না। তারা বারবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করলে বলা হয় পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র দেওয়া হবে। এ খবরের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীরা বুধবার দিনভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা হতাশা-কান্নায় ভেঙে পড়ে।
পরে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যার পর রংপুর শহর-হারাগাছ সড়ক অবরোধ করে প্রবেশপত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেয়ে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সড়কে বসে থাকে।
এ সময় ওই সড়ক পথে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। পরে তিনি রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) ঘটনাস্থলে পাঠান।
তিনি গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হন। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তার আগেই পালিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসকের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ ও আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
পরে জেলা প্রশাসক তাদের বিশেষ ক্রমিক নম্বর ও প্রবেশপত্র দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তারা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করলে তারা পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে পরীক্ষা দিতে পারলেও রেজাল্ট কী হবে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়েই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন এবং কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দফতর থেকে তাকে খোঁজা হচ্ছে। জানা গেছে, তিনি আত্মগোপন করেছেন।
জানা গেছে, ওই কলেজ থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৫৮ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত তাদের প্রবেশপত্র না আসায় তারা আন্দোলনে নামে। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। এ সময় অধ্যক্ষ গা-ঢাকা দেন।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ বলেন, আমরা বিশেষ বিবেচনায় ২৫৮ জনের পরীক্ষা নিয়েছি। বোর্ড এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিল।
হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার ওসি শওকত চৌধুরী বলেন, ওই কলেজে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।