আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তায় করায় মামলা করবেন স্বামী

news-image

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা ও হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, রোজিনা একজন সাংবাদিক এবং একজন নারী সাংবাদিক। তাকে কোনভাবেই এরকম হেনস্তা ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে পারে না তারা। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পিএসের রুমে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন রোজিনা ইসলাম। মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তারা তার ওপর চড়াও হন। তাকে গলা চেপে ধরা হয়েছে হত্যার উদ্দেশে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জাকিয়া পারভীন, অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম ও পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। নিচে ফেলে গলায় পাড়া দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আদালতে মামলা করবো।

‘গুরুত্বপূর্ণ’নথিপত্র নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানা থেকে সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেয়া হয়। তার আগে সোমবার বিকেলে তাকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর রাতে থানায় মামলা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, ‘গুরুত্বপূর্ণ’নথিপত্রের ছবি তোলা ও সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের দাবি, তিনি কোনো নথিপত্র নেননি কিংবা নথিপত্রের ছবি তোলেননি। সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সচিবের পিএস তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে পুলিশ ডাকে।

ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধি ৩৭৯, ৪১১ ধারায় ও অফিসিয়ালস সিক্রেসি অ্যাক্ট ৩ ও ৫ ধারায় মামলা করা হয়েছে।