আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

লোভে পড়ে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি

news-image

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে কৃষকদের নগদ টাকার প্রলোভন দেখার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে কৃষককে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করার নামে মাটি নেওয়ার উদ্দেশ্য হাসিলেরও। তবে নগদ টাকা পেতে অনেক কৃষক স্বেচ্ছায় মাটি বিক্রি করছেন বলেও জানা গেছে। এভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্তা বর্মণ বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের ছয় থেকে আট ইঞ্চির মধ্যে মাটির জৈব উপাদান থাকে। সেই মাটি কাটা হলে জমির জৈব উপাদান চলে যায়। এতে জমির স্থায়ী ক্ষতি হয়। ফসলি জমির মাটি কাটা তাই বেআইনি। এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত উপজেলা প্রশাসনের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সখীপুর উপজেলায় ১২টি ইটভাটা রয়েছে। আশপাশের উপজেলার তুলনায় সংখ্যাটি কমই বলতে হবে। পাশের কালিহাতীতে ৫৫টি ও ঘাটাইলে ৬৮টি ইটভাটা রয়েছে। ওই উপজেলাগুলোর ইটভাটাতেও সখীপুর থেকে মাটি যাচ্ছে। ফসলি জমির মাটি বেচাকেনার কাজে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছেন। তাঁরা বছরের বিভিন্ন সময় (অফ-সিজন) কম দামে একর বা বিঘা চুক্তিতে কৃষকের জমির মাটি কিনে রাখেন। ইটভাটার মৌসুমে জমি থেকে মাটি কেটে তা বেশি দামে ইটভাটায় সরবরাহ করেন। কোনো কোনো কৃষক সরাসরি ভাটার মালিকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে মাটি বিক্রি করছেন।

উপজেলার বহেড়াতৈল, কাকড়াজান, যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, খননযন্ত্রের সাহায্যে এসব মাটি কেটে ট্রাক্টর ও ট্রাকের সাহায্যে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বহেড়াতৈল ইউনিয়নের যোগিরকোফা গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, তিনি ১০ বছর ধরে মাটির ব্যবসা করছেন। তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জমির মাটি কিনে রেখেছেন। এক-দেড় ফুট গভীরতায় মাটি কেটে ভাটার মালিকের কাছে বিক্রি করছেন। প্রতি বিঘা জমির মাটির জন্য ৩০-৪০ হাজার টাকা হারে চুক্তি হয়েছে।
বহেড়াতৈলের পুবালী ইটভাটার মালিক রহিম তালুকদার বলেন, মাটি কাটার সময় ফসলি জমির উপরিভাগের ছয়-সাত ইঞ্চি মাটি কেটে আলাদা করে রাখেন। যাতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট না হয়ে যায়।

বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওয়াদুদ হোসেন বলেন, মাটি আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে বড় চাকার ট্রাক্টর চলছে। ফলে গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হচ্ছে। এসব ট্রাক্টরের মালামাল পরিবহন করে রাস্তায় চলার অনুমতি নেই।

ইউএনও চিত্রা শিকারী বলেন, এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করে তুলতে হবে। মাটি পরিবহনে যাতে সড়কে অবৈধ ট্রাক্টর না চলে, সে বিষয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।