আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

লোহাগাড়ার ডলুখাল অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ

news-image

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ডলুখালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেড় কোটি টাকায় নির্মিত বেড়িবাঁধ ও প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া মহল্লা কমিটির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ-সদস্য ড. আবু রেজা নদভীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। তার নির্দেশে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ইজারাদারকে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করে। তবে এর পরও বালু উত্তোলন থেমে নেই। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, ইজারাদার একজন হলেও মূলত সরকারদলীয় ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন করছে। ইজারাদারকে নামমাত্র টাকা দিয়ে সিন্ডিকেটের লোকজন কোটি কোটি টাকার বালু তুলছে। এতে পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ-সদস্যের এক পিএস-ও সিন্ডিকেটকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ আছে। জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার বালুমহাল-১ থেকে বালু উত্তোলনের কার্যাদেশ নেন আবুল কাসেম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। আয়কর ও ভ্যাটসহ ৫ লাখ টাকা এজন্য জেলা প্রশাসনকে পরিশোধ করেন তিনি। ১৪২৯ বাংলা সনের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত একসনা লিজ প্রদান করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, যে স্থানে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন এর বাইরে ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ডলুখালে জেগে ওঠা চর, খালের পাড়, পাহাড়ি টিলা এস্কেভেটর দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে বালু তুলে ফেলা হচ্ছে। এতে করে খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে তা হুমকির মুখে পড়েছে। খালের পাড়ের লাগোয়া মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দারাও ঝুঁকিতে পড়েছে। পুকুরের মতো গভীর গর্ত করে যেভাবে বালু ও মাটি তুলে ফেলা হচ্ছে এতে করে যে কোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে জনপদ বিলীন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আবুল কাসেম চৌধুরী কাগজে-কলমে ওই বালুমহালের ইজারাদার হলেও মূলত সরকারি দলের ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট এই বালুর মহালটি নিয়ন্ত্রণ করছে। জাফর আহমদ ও আকতার হোসেন এর নেতৃত্বে রয়েছেন।

তবে বালু তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে আকতার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বৈধভাবেই বালু তুলছেন ইজারাদার। কোনো সিন্ডিকেট নেই। অবশ্য এ বিষয়ে ইজারাদার আবুল কাসেম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অবৈধ বালু উত্তোলন ও জরিমানা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ উল্লাহ বলেন, ‘সীমানার বাইরে গিয়ে ড্রেজার লাগিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল ডলুখালে। এ কারণে আমরা ইজারদারকে জরিমানা করেছি। এছাড়া ওই ইজারাদারের বালুমহালের সীমানাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে থেকে তারা বালু তুলতে পারবে না। পরিবেশ ও জনপদের হুমকি সৃষ্টি হয় এমন কাজ করার সুযোগ নেই।’

এ জাতীয় আরও খবর

১৫১ প্রতিমা নিয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন

স্বজন হারানোর আহাজারির মাঝেই চলছে অবৈধ বালু তোলার মহোৎসব

নূরুল ইসলাম রাজা দ্বিতীয়বার মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

শ্রীবরদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিদায়ী র‌্যাব ডিজি

কক্সবাজারের রামু বাঁকখালীর বাঁকে বাঁকে অবৈধ ড্রেজার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা মিলেমিশে নদীর ২৫টি অংশে ৫০-৫৫টি খননযন্ত্র বসিয়ে দৈনিক ৫০০ ট্রাক বালু তুলছেন।

নিলামে বালু বিক্রি, ১৩ সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি বেলার

মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নিলামে বালু দিলেন ইউএনও

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন হুমকিতে শত কোটি টাকার সেতু

ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন

তথ্য অধিকার আইন, দোরগোড়ায় সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী