আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

শিবালয়ে পেট্রোলের গোডাউনে অগ্নিকান্ড

সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের শিবালয়ে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে উপজেলার শিমুলিয়া মোড়ে আলহাজ্ব আব্দুর রহিম খানের ভাড়া দেয়া ঘরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজার ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, শিমুলিয়া গ্রামের মৃত লালচাঁনের ছেলে মো. ফাইজুদ্দিন আব্দুর রহিম খানের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বে-আইনিভাবে জ্বালানি পদার্থ পেট্রোল ও অক্টেন বিক্রয় করে আসছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই ঘরে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তারা আরো জানান, ঘিওরের ফায়ার সার্ভিস প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। তারা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হাজির হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা যদি আরেকটু দেরিতে হাজির হতো তাহলে অগণিত ক্ষতি হয়ে যেতো, কারণ পাশেই ছিল পাটের গোডাউন।

পাশের রুমের ভাড়াটিয়া শেখ মর্তুজ জানান, ফাইজুদ্দিনের গো-ডাউনের আগুনে তার একটি হ্যালোবাইক ও ছেলের একটি পায়ে চালিত রিক্সা সম্পূর্ণভাবে ভস্মিভূত হয়েছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা এগুলো কিনেছিলেন। এখন কি দিয়ে কিস্তি দেবো, আর কিভাবে সংসার চালাবো?

ছোট বুতুনী গ্রামের অন্য ভাড়াটিয়া নুরুল ইসলাম ও রুবেল জানান,আমরা ভাড়ায় মটর সাইকেল চালাই। আমরা মাসে ৮০০ টাকায় খান সাহেবের ঘর ভাড়া নিয়ে রাতে মটর সাইকেল রাখতাম। কিন্তু ফাইজুদ্দিনের পেট্রোলের আগুনে আমাদের মটরসাইকেল শেষ। এখন আমরা বৌ-বাচ্চা নিয়ে কিভাবে চলবো, ভেবে পাচ্ছি না।

আরেক ভাড়াটিয়া ইদ্রিস আলী জানান,আমি পেশায় একজন দর্জি। আমি খান সাহেবের ঘর ভাড়া নিয়ে বেশ ভালোই ছিলাম। কিন্তু ফাইজুদ্দিনের পেট্রোলের গোডাউনের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল।

উপস্থিত লোকজন জানান, পেট্রোলের গোডাউনে গ্যাসের চুলায় দুধ গরম করার সময় অসতর্কতার বশে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

শিমুলিয়া বাজারের পেট্রোল ব্যবসায়ী মো. ফাইজুদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবত পেট্রোল বিক্রি করি। তবে পেট্রোল বিক্রির কোন অনুমতিপত্র আমার কাছে নেই। আমি গতকাল ভাদিয়াখোলা থেকে পেট্রোল আনতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পেট্রোল পাইনি। গতকাল আমার ঘরে পেট্রোল ছিল না। কিভাবে আগুনের সূত্রপাত প্রশ্নের জবাবে বারবার তিনি বলেন, আমি জানি না।

ঘর মালিক আলহাজ্ব আব্দুর রহিম খানের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ঘিওর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম হাওলাদার জানান, সংবাদ পাওয়ার এগারো মিনিটের মধ্যে আমরা ঘনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমর্থ হই। আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি, শর্ট-সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।