আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

মানিকগঞ্জের শিবালয় সদর উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির অভি

news-image

মানিকগঞ্জ ১৭ জানুয়ারী ২০২০ সুরেশ  চন্দ্র রায় :    বহুল আলোচিত মানিকগঞ্জের শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ ড. বাসুদেব কুমার দে শিকদারের  বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা মিলেছে। তবে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ইতোপূর্বে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করার দায়ে সাবেক কলেজ পরিচালনা পরিষদ সভাপতি তাকে বহিষ্কার করেছিলেন। তবে রহস্যজনকভাবে একই পদে বহাল হয়ে তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। আগের মতই করতে থাকেন  একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কলেজ এবং কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এমন অবস্থায় কলেজ রক্ষায়  শিক্ষার্থী, অভিভাবক  ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত অধ্যক্ষ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্রে জানায়, সম্প্রতি কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও কলেজ কমিটির সভাপতির কাছে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেন। অভিযোগের বলা হয়েছে, কলেজ আঙিনায় মাটি ভরাট বাবদ প্রায় ২ লাখ টাকা, কলেজ ভবনের সংস্কার বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র তৈরি ও মেরামত বাবদ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ব্যয় দেখিয়েছেন তিনি। অথচ এর অর্ধেক টাকাও ব্যয় হয়নি। বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন ফি থেকেও রসিদ জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।  বাসুদেব দে শিকদারের বিরুদ্ধে  অভিযোগ রয়েছে, অডিট রিপোর্ট গোপন করেও টাকা হাতিয়েছেন তিনি। এমনকি কলেজ ফান্ডের টাকা দিয়ে নিজের ছেলের গৃহশিক্ষকের বেতন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক এসএম ফেদৌস স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ফৌজিয়া খানমকে দায়িত্ব দেন। ফৌজিয়া খানম প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিয়োগের তদন্ত চলার কারণে কলেজের ১৫ জন নন-এমপিও এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে পরিচালনা পর্ষদ। ফলে বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন  নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস    জানান, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিনি জবাবও দিয়েছেন। এখন বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. বাসুদেব কুমার দে শিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটা ষড়যন্ত্র। তিনি জানান, কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনে তার যত অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি কীভাবে প্রতিবেদন দিল এটা আমার বোধগম্য নয়।

অপরদিকে, সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মামলা পরিচালনাকারী অ্যাডভোকেট মো. আমজাত হোসেন বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ হঠাৎ করেই বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন। তিনি এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন এবং সরকারের কোনো বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করছেন না। এমন দুর্নীতিগ্রস্ত অধ্যক্ষের যথাযোগ্য শাস্তি না হলে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করায় এবং নানা  অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কলেজের সাবেক পরিচলানা পর্ষদ অধ্যক্ষকে সাময়িক বহিষ্কার করেছিল।

এ জাতীয় আরও খবর

মাতৃভাষার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

সিরাজগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রকৌশলী আটক

সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ

সিরাজগঞ্জে সাংবাদিকের উপর হামলা : ক্যামেরা ছিনতাই

শুরু হচ্ছে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী ১৭ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট শ্রী শ্রী কালী মায়ের পূজা

কুষ্টিয়ায় গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা

গাছ কর্তন করে বন বিভাগের জমি দখলের চেষ্টা,থানায় জিডি

সিরাজগঞ্জে এশারত আলীর ভেজাল পণ্য জব্দ, গোডাউন সিলগালা ঃ আটক ১

মাদক পাচার বন্ধে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আশুলিয়ায় মামলার প্রধান আসামি ছেড়ে দিলো পুলিশ!-ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সাভারে ৩ হাসপাতাল সিলগালা