আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা, সহপাঠীর উপর দায় চাপানোর চেষ্টা

news-image

কুরআনের হাফেজ হতে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরলক্ষীগঞ্জ হাফেজ সামছুল হক (রহ.) নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় গিয়েছিল ১০ বছরের শিশু আরাফাত। ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তাকে বলাৎকারের পর প্রকাশের ভয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে হত্যাকারী এ হত্যার দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল নিহতের দশ বছরের এক সহপাঠীর উপর।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) চারদিনের রিমান্ড শেষে প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন (৪২) আরাফাতকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে বলেন, তিনি গত ২১ আগস্ট রাতে বলৎকারের পর আরাফাত বিষয়টি তার বাবাকে বলে দেবে বলে। এ সময় তিনি ঘটনা প্রকাশের ভয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এক পর্যায়ে গলা টিপে আরাফাতকে হত্যা করে পরে লাশ মাদ্রাসার কাছে ডোবায় ফেলে দেন।

গত সোমবার ২৩ আগস্ট আরাফাত হত্যা মামলায় আসামি প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনকে (৪২) ৪ দিনের, সহকারী শিক্ষক আজিম উদ্দিন (৩৩) ও নুর আলীকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই সাথে গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের আলম ফাইজকে (১১) গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, নিহত আরাফাত সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ইউনিয়নের ছয়আনি গ্রামের নাজের কোম্পানির বাড়ির কাতার প্রবাসী সানা উল্লাহর ছেলে। ওই মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে দুই বছর আগে ভর্তি হয়। সে সেখানে হোস্টেলে থেকে কুরআন মুখস্থ করতো। গেল ঈদের আগে প্রবাস থেকে আসা বাবার সাথে সময় কাটিয়ে আরাফাত তিন দিনের ছুটি শেষে গত ১৬ আগস্ট সোমবার মাদ্রাসায় চলে যায়।
গত ২২ আগস্ট সকালে ওই মাদ্রাসার বিপরীতে করে দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর এলাকার একটি ডোবায় আরাফাতের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আরাফাত পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার খবর দেয় আরাফাতের পরিবারে। পানিতে ডুবে ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় প্রচারও করে তারা। পরে পুলিশ এসে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়। সাঁতার জানা আরাফাতের পানিতে ডুবে মৃত্যু পরিবার ও স্থানীয়রা মানতে পারছিলো না।

একইদিন আরাফাতের বাবা সানা উল্লাহ বাদী হয়ে এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে দাগনভুঞা থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ওইদিন রাতেই মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে অধ্যক্ষ মোশারফ ও আরাফাতের এক সহপাঠিসহ এজাহার নামীয় আরও দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী বলেন, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন চালাক। সে প্রথমে নিহত আরাফাতের এক সহজ সরল সহপাঠীকে হত্যার দায়ে শিখিয়ে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করে নিজে বাঁচতে চেয়েছিল। পুলিশকে নানাভাবে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছিল। পরে রিমান্ডে আরাফাত হত্যাকাণ্ডের নির্মমতার ঘটনা স্বীকার করে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার নিহত আরাফাতের সহপাঠী জোবায়ের আলম ফাইজকে জামিন দেওয়ার জন্য পুলিশ আদালতে সুপারিশ করবেন বলে জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর

১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চাষাঢ়া-খাঁনপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক কাজ এগিয়ে চলছে

এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপে শিবালয়ের যমুনা ড্রেজার মুক্ত

নারায়ণগঞ্জে বাস চাপায় ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী নিহত : অভিযুক্ত চালক গ্রেপ্তাার

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাসোহারা না দেয়ায় নির্যাতন, এএসআই ক্লোজড

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জে অটোরিক্সা চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযান, গ্রেপ্তার ১৪

সিদ্ধিরগঞ্জে লন্ডন প্রবাসীকে মৃত দেখিয়ে প্রবাসীর বাড়ী দখল

ঘিওরে নবাগত ওসির সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ঘুমন্ত স্বামীর বিশেষ অঙ্গন কর্তন, স্ত্রী গ্রেপ্তার

‘লাল পতাকা দেখালেও কথা শুনেনি চালক’

ধলেশ্বরী নদী থেকে মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার