আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

শেখ হাসিনার সব অর্জনকে চামচারা ধ্বংস করে দিচ্ছে: কাদের মির্জা

news-image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আমি নির্বাচনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিয়েছি। এজন্য এমপি একরামুল চৌধুরী, ফেনীর এমপি নিজাম হাজারী, নোয়াখালীর ডিসি-এসপি, জেলা নির্বাচন অফিসার বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। একই সাথে কবিরহাট উপজেলা ও ফেনীর একটি বাড়িতে বসে নির্বাচন বানচাল করার যড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, পত্রপত্রিকাগুলো আমার কথা হু-বহু না লিখে এডিট করে আমার কথাগুলো বিকৃত করে প্রকাশ করছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের মন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে আমার বিরুদ্ধে খ্যাপিয়ে তুলছে। চামচারা শেখ হাসিনার সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

সোমবার বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রূপালী চত্বরে ব্যবসায়ীদের আয়োজনে এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, ঢাকার ব্যবসায়ী গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুল, আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান প্রমুখ।

কাদের মির্জা বলেন, ফেনীতে একজন জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে তার গাড়িতে পেট্রল ঢেলে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য আজও ওই পরিবার এ হত্যার বিচার পায়নি।

জেলা প্রশাসককে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, একজন এমপির নামযুক্ত মাস্ক কীভাবে আপনি পরেন। আপনি তো নিরপেক্ষ নন। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদরের সংসদ সদস্য একরামুল কবির চৌধুরী চাকরি বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। তার মতো লোক আমাকে ধমকায়, মেরে ফেলার হুমকি ও ভয় দেখিয়ে কী হবে, আমি ভয় পাই না।

তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জে আজকে অস্ত্রের ঝনঝনানি চলছে। যে কোনো সময় আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে। আমি আপনাদের কবর দেখিয়ে দিয়েছি আমাকে সেখানে কবর দেবেন। যদি মারা যাই, হাশরের ময়দানে দেখা হবে। আমার শেষ কথা হচ্ছে- চামচারা শেখ হাসিনার সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা আমাকে সহযোগিতা করলে, আমি বসুরহাট পৌরসভাকে সিঙ্গাপুরের শহরে পরিণত করব। এমপি একরাম চৌধুরীর বাড়িতে তার ছেলে (সাবাব চৌধুরী) এবং কুলাঙ্গার এক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (মিজানুর রহমান বাদল) কোম্পানীগঞ্জে অস্ত্র পাঠিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমি প্রশাসনকে এসব বিষয়ে জানিয়েছি।

কাদের মির্জা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি এখানে কোন লাশ পড়ে, কোন মায়ের বুক খালি হয়, কারও বাড়িঘর, খড়ের গাদায় আগুন দেয়া হয়, ভোট ডাকাতি বা নির্বাচনী প্রহসন হয়- তাহলে এসব কিছুর দায়-দায়িত্ব নোয়াখালীর ডিসি-এসপি ও নির্বাচন অফিসারকে নিতে হবে। এ দায় আমাদের এলাকার নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং আমাদের নেতা মন্ত্রী (ওবায়দুল কাদের) এড়াতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমার শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাব। বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঝপথে বর্জন করে, এটা তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আমি এখানকার বিএনপির মেয়র প্রার্থী আমার মামা কামাল উদ্দিন চৌধুরী এবং জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মোশাররফকে বলব, কোথাও অনিয়ম হলে তা যদি সত্য হয় আমিসহ আপনাদের নিয়ে একযোগে নির্বাচন বর্জন করব। ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট বা কেউ যেন কোনো অনিয়ম না করে, টিপা-টিপি করে কোনো মার্কায় অনৈতিকভাবে ভোট না দেয়, আমার অনুরোধ তারাও যেন নিরপেক্ষ নির্বাচন করায় সহযোগিতা করেন।

তিনি আরও বলেন, আজ (সোমবার) সকালে এক পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী (নাম উল্লেখ করেননি) আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার এলাকায় অন্যান্য দলের মেয়র প্রার্থীরা স্বাধীনভাবে ভোট করছেন, আমি তো বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।

ওই এলাকার এমপি-নেতাদের উদ্দেশে মির্জা বলেন, তারাও আবার নাকি নেতা। আমার এলাকায় কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি দেয়ার খবর শুনছি। খবরদার এ ধরনের হলে তথ্য-প্রমাণসহ আমাকে জানান, আমিই ব্যবস্থা নেব।