আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সরাইলে ৪ লাখ টাকায় প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বাক্‌প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের ঘটনায় চার লাখ টাকায় মীমাংসা করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদে এক সালিসি বৈঠকে এ রফাদফা হয়।

ওই সালিসের মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন বলছে, একজন ইউপি চেয়ারম্যান ধর্ষণের মতো ঘটনা এভাবে রফাদফা করতে পারেন না।
গত ২ মার্চ সন্ধ্যায় ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ মামলার একমাত্র আসামি আদু মিয়াকে (৩৫) তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বর্তমানে কারাগারে। ঘটনার পরের দিন পুলিশের কাছে দায় স্বীকার করেন আদু মিয়া। এ ছাড়া দোষ স্বীকার করে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সালিস বৈঠকের কথা স্বীকার করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ওই কিশোরীর পরিবার একবারে গরিব। তারা মামলা চালাতে পারবে না। এ জন্য উভয় পক্ষের সম্মতিতে বৈঠকে বসে বিষয়টি শেষ করা হয়েছে। চার লাখ টাকা আমার কাছে জমা আছে। মামলা শেষ করার পর আমি দুই পক্ষের লোকজনের সামনে টাকা বুঝিয়ে দেব।’
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২ মার্চ সন্ধ্যার পর চুন্টা ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা আদু মিয়া বাক্‌প্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে তাঁর বাড়ির ছাদে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর সে বাড়ি ফেরে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই গ্রামে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে চুন্টা ইউপির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ইউপি সদস্যসহ অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনকে নিয়ে তাঁর কার্যালয়ে একটি সালিস বৈঠক করেন। বৈঠকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা আলোচনার পর ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর পরিবারকে চার লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন ইউপি চেয়ারম্যান। এ ছাড়া থানা-পুলিশ ও আদালতের খরচ ধর্ষণে অভিযুক্তের পরিবার থেকে মেটানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত সবার সামনে আদু মিয়ার সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) চেয়ারম্যানের হাতে চার লাখ টাকা তুলে দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর কার্যালয়ে বসে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষণের মতো ঘটনা শেষ করতে পারেন না। ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ওই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল হক বলেন, ধর্ষণের মতো ঘটনা একজন ইউপি চেয়ারম্যানের নিষ্পত্তি করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সেটা করতে পারেন না। বিষয়টি তিনি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন।

এ জাতীয় আরও খবর

নারায়নগঞ্জে ৪১৪ জন শিক্ষককের আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ