আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সাঁতারে তৃতীয় দিনে আরো চারটি জাতীয় রেকর্ড

news-image

একটা গেমসে অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, শ্যুটিং, ফুটবলের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ থাকে। নবম বাংলাদেশ গেমসের এই খেলাগুলো এখন শেষের পথে। অ্যাথলেটিকস আগের দিন শেষ হয়ে গেছে। আকর্ষণীয় ডিসিপ্লিন সাঁতারে রেকর্ডের দিন গেছে কাল। মিরপুরে সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিংপুলে গতকাল তৃতীয় দিনে আরো চারটি জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। পুরুষদের ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে নৌবাহিনীর কাজল মিয়া শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। কাজল মিয়া ২ মিনিট ১০.৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়েন এবং সেনাবাহিনীর জুয়েল আহমেদের ২০১৯ সালে গড়া রেকর্ড ভাঙেন তিনি। একই ইভেন্টে জুয়েল আহমেদ নিজের পুরোনো রেকর্ড টাইমিং টপকে গেলেও তিনি ২ মিনিট ১১.১৭ সেকেন্ডে রৌপ্য জিতেছেন কুষ্টিয়ার আমলা থেকে উঠে আসা এই সাঁতারু।

৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন সেনাবাহিনীর ফয়সাল আহমেদ। রেকর্ড গড়তে ফয়সাল সময় নেন ৪ মিনিট ১৮.২৩ সেকেন্ড।

৫০ মিটার ব্যাক স্ট্রোকে সেনাবাহিনীর সাঁতারু জুয়েল আহমেদ ২০১৯ সালে নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙে গতকাল নতুন রেকর্ড গড়েছেন ২৭.৯৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। চার গুনতিক ১০০ মিটার ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন নৌবাহিনীর আসিফ রেজা, মাহমুদুন্নবী নাহিদ, অনিক ইসলাম ও মাহফিজুর রহমান।

এছাড়াও ২০০ মিটার বাটার ফ্লাইয়ের পর গতকাল ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে দ্বিতীয় সোনা জিতেছেন নৌবাহিনীর সোনিয়া আক্তার টুম্পা। ৮০০ মিটার বাটারফ্লাই ও ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্ট নিয়ে তিন দিনে এটা ছিল ব্যক্তিগত লড়াইয়ে টুম্পার চতুর্থ স্বর্ণ পদক। টুম্পা ৫ মিনিট ৭.৮৯ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর নাঈমা আক্তার ৫ মিনিট ১৯.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে রৌপ্য পদক পেয়েছেন। সেনাবাহিনীর আরেক সাঁতারু শারমিন সুলতানা ৫ মিনিট ২৭.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।১ মিনিট ৭.০১ সেকেন্ড সময় নিয়ে ছেলেদের ১০০ মিটার বেস্টস্ট্রোক ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন সেনাবাহিনীর সুকুমার রাজবংশী।

শ্যুটিংয়ে আর্মি সেরা

গেমস শ্যুটিংয়ে ১৬ স্বর্ণপদকের মধ্যে আর্মি শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশনের আটটি স্বর্ণ জয় করেছে। সঙ্গে আরো পাঁচটি করে রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জ পদকও রয়েছে। নৌবাহিনী শ্যুটিং ক্লাব ৩ স্বর্ণ, ৪ রৌপ্য ও ৪ ব্রোঞ্জ সহ মোট ১১ পদক নিয়ে হয়েছে দ্বিতীয়।

পুরুষদের ৫০ মিটার ফ্রি পিস্তল ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছেন আর্মি শ্যুটিং অ্যাসোসিয়েশনের শাকিল আহমেদ। এসএ গেমসের স্বর্ণজয়ী শাকিল নিজের সেরা ইভেন্ট ১০ মিটারে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ৫১৬ স্কোর করে ৫০ মিটারে সফল হয়েছেন।

নারীদের ২৫ মিটার পিস্তলে কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাবের আরদিনা ফেরদৌস আখি ৫৫১ স্কোর করে স্বর্ণ জয় করেন। পুরুষদের ৫০ মিটার রাইফেলে নেভি শ্যুটিং ক্লাবের আব্দুল্লাহ হেল বাকী স্বর্ণ, রবিউল ইসলাম রৌপ্য ও শোভন চৌধুরি চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবকে ব্রোঞ্জ এনে দিলেন।

লড়াই শুরু করলেন বক্সাররা

বাংলাদেশ গেমসে বক্সিং ডিসিপ্লিনের খেলা শুরু হয়েছে। সোমবার মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে ৯টি ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন ৩৪টি ক্লাব ও সংস্থার ৯০ জন পুরুষ ও নারী বক্সার। এর মধ্যে পুরুষদের ছয়টি ইভেন্টে ৬৮ জন এবং নারীদের তিনটি ইভেন্টে রিংয়ে লড়ছেন ২২ জন। চার দিন ব্যাপী খেলার পুরুষ ইভেন্টগুলো হলো- ৪৯ কেজি, ৫২ কেজি, ৫৬ কেজি, ৬০ কেজি, ৬৪ কেজি ও ৬৯ কেজি এবং নারীদের ইভেন্ট ৪৮ কেজি, ৫১ কেজি ও ৫৪ কেজি ওজন শ্রেণি।

স্মৃতি আক্তার ও মোস্তাইন বিল্লাহ রেকর্ড

সেনাবাহিনীর স্মৃতি আক্তার ও আনসারের মোস্তাইন বিল্লাহ ভারোত্তোলনের প্রথম দিনে স্ন্যাচে রেকর্ড গড়েছেন। ময়মনসিংহ জিমন্যাশিয়ামে অনুষ্ঠিত ৪৯ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জয়ের পথে স্ন্যাচে রেকর্ড ৬৬ কেজি তুলেন স্মৃতি আক্তার। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ৭৩ কেজি তোলেন তিনি। মোট ১৩৯ কেজি উত্তোলন করে সোনা জয়ের উল্লাসে মাতেন স্মৃতি। ছেলেদের ৬১ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জয়ের পথে স্ন্যাচে রেকর্ড ১০৬ কেজি তুলেন মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তুলেছেন ১২১ কেজি। দুই বিভাগে তিনি ২২৭ কেজি তুলেছেন। স্ন্যাচে আগের রেকর্ড ছিল মুস্তাইন বিল্লাহর দখলেই (১০৫ কেজি)। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে দুই দফা রেকর্ড ওজন তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মোস্তাইন। বিল্লাহ বলেন, ‘ক্লিন অ্যান্ড জার্কে রেকর্ড হলে আরো ভালো লাগত। খারাপ লাগছে দুই বার চেষ্টা করেও পারিনি।’