আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সাভারের বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে ভবন নির্মাণ

news-image

মতিউর রহমান ভান্ডারী : রাজধানীর উপকন্ঠ সাভারের ভাকুর্তা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী দখল বহুতল ভবন নির্মাণ করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এলাকাবাসী ও ইউপি চেয়ারম্যানের নিষেদ অমান্য করে ভবন নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ করছেন। এ বিষয়টি সাভার উজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পর ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে কাজ করতে নিষেধ করার পরও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা।
সরেজমিনে ভাকুর্তা ইউনিয়নের সোলাইমার্কেট ঈদগাহ মাঠের সামনে গিয়ে দেখা যায় শফিউল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বুড়িগঙ্গা নদীর মধ্যে পাঁচ তলা ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিং কাজ করছেন। এর পাশে ভুলু মিয়া নামে ইতালি প্রবাশীও ওই নদীতে পাকা সীমানা করে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। অপর পাশে আগজর আলী নামে এক ব্যক্তি দোতলা ভবন নির্মাণ কাজ করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শত বছরের পুরনো এই নদীতে একসময় বড় বড় লঞ্চ, ট্রলার চলাচল করতো। বর্তমানে কালের বিবর্তনে ভূমিদস্যুরা নদীটির দুই পাশের বিভিন্ন স্থানে ভরাট করে বাড়িঘর, পাকা মার্কেট ও দোকান, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ভরাটের ফলে নদীটি এখন সরু নালায় পরিনত হয়েছে। দখলের কারণে বুঝারও উপায় নেই একসময় এটি বুড়িগঙ্গা নদী ছিলো।
ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিউল্লা বলেন, ক্রয় সুত্রে এই জমির মালিক আমার বাবা। আমার নামে বিআরএস রেকর্ড হয়েছে এবং নক্সাও রয়েছে। তবে সিএস পর্চা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, জমিটি একসময় নদী থাকলেও পরবর্তীতে হিন্দুদের নামে এসএ রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে হিন্দরা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে এই জমিটির নিলাম হয় এবং এসহাক সাহেব নামে এক ব্যক্তি নিলাম ক্রয় করেন। তার কাছ থেকে আমার বাবা জমিটি ক্রয় করেন। কিন্তু নিলাম ক্রয়ের কোন কাগজ কিংবা হিন্দুদের ভায়া দলিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে শফিউল্লা বলেন, আমাদের এলাকায় ভবন নির্মানের কোন অনুমোদন লাগেনা।
রাজফুলবাড়িয়া ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, শফিউল্লাহ সাহেব নদীর জমিতে ভবন নির্মাণ করছেন। আমি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাদেরকে কাজ না করার জন্য নিষেধ করেছি। এছাড়া নদী দখলের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে অবগত করা হবে।
ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, ভূমিদস্যুরা প্রতিনিয়ত বুড়িগঙ্গা নদীটি দখল করে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মান করে যাচ্ছে। একাধিকবার তাদেরকে বাঁধা প্রদান করা সত্বেও তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দলখ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি চিঠিও দিয়েছি।
নদী দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, নদী দলকারীদেরকে এরই মধ্যে লোক পাঠিয়ে কাজ না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ নদীর মধ্যে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করে সেগুলো উচ্ছেদের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদেরর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

কোয়ারেন্টিন শেষে বিদেশফেরত ২১৯ বাংলাদেশি কারাগারে

যত্রতত্র পশুরহাটের অনুমতি দেয়া যাবে না : ওবায়দুল কাদের

ভেন্টিলেটর কাজে লাগে না, মানুষ মরে যায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনার ভয়াবহতা এখনও বাকি : ডব্লিওএইচও

আগামীকাল সকাল ১১টা থেকে সদরঘাটে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিবে তদন্ত কমিটি

সুন্দরগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ভাগ্নিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন, এরপর বাবা-মামা মিলে হত্যা

ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় মহিলা পরিষদের উদ্বেগ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের তীব্র নিন্দা

ওয়ারীতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে স্বামী তিন দিনের রিমান্ডে

ডাক্তারদের থাকা-খাওয়ার কোনো দুর্নীতি হয়নি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাহিদকে সরিয়ে মতিয়াকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করার দাবি সংসদে