আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সাভারে কুলিবিটের নামে চাঁদা আদায়, থানায় অভিযোগ

সাভারে কুলিবিটের নামে চাঁদা আদায়, থানায় অভিযোগ
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : পৌর এলাকার সাভার বাসস্টান্ড সংলগ্ন যানবাহন ও কুলিস্টান্ডের ইজারা নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়াই জোর পূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বরাবরই স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রনে থাকা এই কুলিস্টান্ডের ইজারার নামে চলছে যত্রতত্র চাঁদাবাজি। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজদের এই অত্যাচার চলে আসলেও এটি বন্ধে কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে সাভার পৌরসভার মেয়র হাজ্বী আব্দুল গণী বলেন, রশীদ ছাড়া টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই, অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অন্যদিকে কথিত এই কুলি বিটের নামে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইচ্ছামত চাঁদা আদায়ের ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কয়েকজন ব্যবসায়ী।
ইদ্রিস আলী নামে সাভার বাজারের এক পাইকারী মুরগী ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কোন কুলি না থাকলেও দীর্ঘদিন যাবত সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের চাঁদা আদায় করে আসছে। ইতিপূর্বে এই চাঁদার পরিমান ১০০ টাকা থেকে শুরু হলেও সম্প্রতি চলতি বছর নতুন ইজারাদার এই চাঁদা মুরগীর গাড়ি প্রতি ৭০০ টাকা নির্ধারন করেছে, যা অসহনীয়। এমনকি চাঁদা না দিলে ইজাদারের লোকজন ব্যবসায়ীদের মারধর করা, পণ্যের গাড়ি আটকে রাখাসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে ব্যবসায়ীদের। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মধু, আরিফ, রিপনসহ কয়েকজন যুবক এই চাঁদার চাকা আদায় করে।
তিনি বলেন, এক গাড়ি মুরগী পাইকারী বিক্রি করে সর্বসাকুল্যে লাভ হয় ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা। এর মধ্য থেকে ৭০০ টাকা চাঁদা দিলে বাকি টাকায় দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করার পর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না ব্যবসায়ীদের হাতে। তাই বাধ্য হয়ে সাভার মডেল থানায় চাঁদাবাজির একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
একই অভিযোগ সাভারের নামা বাজারের আরেক মুরগী ব্যবসায়ী রায়হান শিকদারের। তিনি জানান, করোনা আতঙ্কের মধ্যে সমগ্র দুনিয়া স্তব্ধ হয়ে পরলেও, থেমে নেই কথিত কুলি বিটের নামে চাঁদাবাজি। এক গাড়ি মুরগী পাইকারী বিক্রি করে সব মিলিয়ে দেড় থেকে দু’হাজার টাকা লাভ হলেও তার ৭০০ টাকাই দিতে হয় এই চাঁদাবাজদের। বাকি যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়েই দোকান ভাড়াসহ কর্মচারীদের বেতন মেটাতে হচ্ছে, ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেও লাভের মুখ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।
দ্রুত এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনে নিজেদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান।
অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর বৈশাখ মাসে সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন হাট বাজারের সাথে দরপত্র আহŸান করা হয় সাভার বাজার বাসস্টান্ড সংলগ্ন যানবাহন ও কুলিস্টান্ডের। দরপত্রের শিডিউলে স্পষ্টভাবে এটি সাভার বাজার বাসস্টান্ড সংলগ্ন যানবাহন ও কুলিস্টান্ড উল্লেখ থাকলেও, ইজারাদারের সাথে পৌর কর্তৃপক্ষ ইজারা চুক্তির দলিলে কৌশলে এটিকে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী থেকে ব্যাংক টাউন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েই ইজারাদার কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর কুলি বিটের নামে মহসড়ক থেকে কোন রশিদ ছাড়াই আদায় করে নেয় কোটি কোটি টাকা। এছাড়াও শিডিউলে রিক্সা, ভ্যান ও অটোরিক্সা থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে না বলে স্পষ্ট লেখা থাকলেও মুরগী বহনকারী অটোভ্যান থেকেও চাদা নেওয়া হয়। এমনকি সড়কের চলাচলরত গণপরিবহন থেকেও এই চাঁদা তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাভার পৌরসভার এক কাউন্সিলর বলেন, এটি মূলত একটা কৌশল। শিডিউলে সাভার বাজার বাসস্টান্ড লেখা থাকলেও চুক্তির দলিলে লেখা হয় রেডিও কলোনী থেকে ব্যাংক টাউন। কিন্তু এখানে তো কোন কুলিই নেই, তো কুলি বিট আবার কি। মূলত এর ইজারাদাররা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ার কৌশলে এটি করা হয়। কিন্তু এটি সম্পূর্ন অবৈধ।
এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার কুলিবিটের বর্তমান ইজারাদার মো: ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চলতি বছর আমি ইজারা নিয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার কোন লোক সাভার বাজার বাস্টান্ডের মুরগীর গাড়ি থেকে টাকা তুলেছে বলে আমার জানা নেই। টাকা তুললেতো অবশ্যই রশিদ দিয়ে টাকা তুলবে। অন্যকেউ যদি কুলি বিটের নাম ব্যবহার করে চাঁদা তুলে সেই দায় তো আর আমার না।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) ও অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আহাদ আলী বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।