আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষ, চার গাড়িতে আগুন

news-image

সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত ইসলাম নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুইজন। চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন হরতাল পালনকারীরা।

রবিবার বেলা ১২টার দিকে শিমরাইল মোড়, মৌচাক ও মাদানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত হয় অন্তত ২০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষিত হরতাল পালন করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার কওমী মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষক রোববার ফজরের নামাজের পর ভোর ৬টা থেকে সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

টায়ার ও কাঠের স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেয় মহাসড়কে কমপক্ষে ৩০টি স্পটে। চলতে দেয়নি কোনো যানবাহন।

যানবাহনহীন ফাঁকা সড়কে লাঠি হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয় হরতাল পালনকারীরা। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে মহাসড়কে সকল প্রকার যানচলাচল। চরম ভোগান্তিতে পড়ে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ।

সকাল ৯টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলমের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা হারতাল পালনকারীদের মহাসড়ক থেকে সড়ে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি।

বরং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি বশির উল্লাহ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করব। বাধা দিলে ভয়াবহ পরিণতি হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

বেলা ১২টার দিকে পুলিশ কঠোর হয়। হেফাজত নেতাকর্মীদের সরিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়। এ সময় হরতালকারীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এতে হেফাজত কর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।

তারা মাদানীনগর কওমী মাদ্রাসার সামনে মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি ট্রাক, দুইটি কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় ছবি তুলতে গেলে অনেক গণমাধ্যম কর্মীদের মারধর, ক্যামেরা ভাঙচুর করে হরতালকারীরা।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ সময় শিমরাইল মোড়ে ডাক্তার শফিক ও মাদানীনগর এলাকায় এক বৃদ্ধ গুলিবিদ্ধ হন। তার পরিচয় জানা যায়নি। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পথচারীরা। তবে কোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তা কেউ জানাতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে থাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহের পারভেজ চৌধুরী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান কোনো মন্তব্য করেননি।

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।