আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সিরাজগঞ্জে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা উত্তোলন

সুজন সরকার সিরাজগঞ্জঃসিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে তিন বছর যাবৎ বিধবা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী সুতারপাড়া গ্রামের মায়া রানী (৫০) নামের এক গৃহবধুর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার কার্ড নং-১৪।
রবিবার (১৭ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে মায়া রানীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৭ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম ও মহিলা ইউপি সদস্য সীমা বেগম টাকার বিনিময়ে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিধবা ভাতা পাবেন বিধবা বা স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়া নারীরা। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিধবা ভাতার সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে কমিটি রয়েছে। সেই তালিকা উপজেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটিতে তালিকা অনুমোদনের পর ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু স্বামী জীবিত থাকতে মায়া রানী তিন মাস পরপর ১৫০০ টাকা হিসাবে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। মায়া রানী পোড়াবাড়ী সুতারপাড়া গ্রামের সুজিত সুত্রধরের স্ত্রী। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বিধবা ভাতা প্রদান তালিকাতে লেখা মায়া রানী, স্বামী মৃত সুজিত সুত্রধর।
জানতে চাইলে ভাতা গ্রহিতা সুজিত সুত্রধরের স্ত্রী মায়া রানী বলেন, ‘সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সীমা বেগম ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি বিধবা ভাতা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রায় ৩ বছরে বিধবা ভাতা কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে তিন বছরে ১০বার ১৫০০ টাকা করে উত্তোলন করেছি। কিছুদিন পূবে ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম সেই ভাতা কার্ডটি জোড়পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সয়দাবাদ ইউপি সদস্য সীমা বেগমা বলেন, ‘তাকে আমি ভাতা কার্ড দেয়নি, টাকাও নেয়নি। তবে ভাতার বিষয়টি সম্পূর্ণ দেখভাল করেন চেয়ারম্যান। তিনি ভালো বলতে পারবেন ভাতার কার্ডের বিষয়ে।
এ বিষয়ে সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নবীদুল ইসলামকে ০১৭১২-৩৫১৯৩০ নাম্বরে বার বার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এ জন্য তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা জানান, মায়া রানী নাম গত ২০১৭ইং সালে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে তাঁকে ভাতা প্রদান বন্ধ করা হবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার জানান, বিষয়টি আমি জানি না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে তাঁকে ভাতা প্রদান বন্ধ করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমিও অবগত হয়েছি। তবে এ ধরণের যদি কোন ঘটনা ঘরে তাহলে ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দায়ভার বহন করতে হবে।