আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩৬ কোটি টাকা

news-image

‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প’ নামে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মেয়াদ এপ্রিল থেকে ধরা হলেও অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে আগামী অর্থবছর থেকে কার্যক্রম শুরু হবে। প্রকল্পের আওতায় ‘ক্যামেরা ফাঁদ’ পদ্ধতিতে বাঘ গণনার কাজও হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ২৭ লাখ টাকা।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মহসিন এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল।

তারা জানান, সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের জাতীয় পশু। আইইউসিএন বাঘকে সারা বিশ্বে অতি সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৩টি দেশে তিন হাজার ৮৪০টি বাঘ টিকে আছে। ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ১১৪টি, ২০১৫ সালে ছিল ১০৬টি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, অভয়ারণ্যে বাঘ কতটা নিরাপদে চলাফেরা করছে, এটা জানা খুবই জরুরি। যদি জায়গাটা নিরাপদ থাকে, আর বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ পায়, তাহলে অবশ্যই বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি সম্ভব।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, যথাযথভাবে বাস্তুতন্ত্র (ইকোসিস্টেম) সংরক্ষণ করতে পারলে প্রাকৃতিকভাবেই বাঘের সংখ্যা বাড়বে। করোনার কারণে গেলো দুই বছর বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। বেড়েছে মানুষের সচেতনতাও, যা বাঘের সংখ্যা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, টিকে থাকার মতো খাবার, পরিবেশের নিশ্চয়তা না দেওয়া গেলে সংখ্যা এমনিতেই কমে যাবে। মানুষ আগের থেকে সচেতন হয়েছে, আগে যা বুঝতো না সেগুলো এখন বোঝে।

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪৫৩টি। ১৯৮৫ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ৪৫০। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএওর বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৪ সালের বাঘের সংখ্যা ৩৬৯টি। ২০০৪ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা ৪৪০।

ক্যামেরায় ছবি তোলার মাধ্যমে ২০১৩ সাল ও ২০১৮ সালে বাঘ শুমারি হয়। ইনফ্লারেড নামক ক্যামেরার মাধ্যমে বাঘ শুমারি হয়। সুন্দরবনে ক্যামেরা ফাঁদ পদ্ধতিতে সবশেষ বাঘ জরিপ হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেবার শনাক্ত হয় ১১৪টি বাঘ, তার মধ্যে পূর্ণবয়স্ক ৬৩টি, ১৮টি ১২ থেকে ১৪ মাস বয়সী এবং ৩৩টি ছিল শাবক।

ওয়ার্ল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান রনথম্বোর ফাউন্ডেশন ও ওয়ার্ল্ড নেচার ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, সুন্দরবনে বাংলাদেশ অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা হার অব্যাহত থাকলে ২০৭০ সাল নাগাদ এখানে বাঘের সংখ্যা ৯৬ শতাংশ কমে যাবে।

সুন্দরবন বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০১-২০২১ সাল পর্যন্ত সিডর, বার্ধক্যজনিত, গণপিটুনি ও শিকারীর হাতে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগে ৩০টি বাঘ মারা পড়ে।

এ জাতীয় আরও খবর

দৌলতদিয়ায় ৭ ফেরিঘাটের ৪টিই বিকল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি

পানির নিচে পন্টুন, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি

ছাত্রদল করা সন্তানের জনক হলেন থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি

যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চাঁদপুরের ডিসিকে বদলি, তিন জেলায় নতুন ডিসি

গাফফার চৌধুরী আর নেই

প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ

কুমিল্লার মানবজমিন প্রতিনিধিসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব ॥ প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন-বিক্ষোভ মিছিল

চাকরির নামে টাকা আত্মসাৎ গ্রেপ্তার ২

মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতি করতো তারা, গ্রেফতার ৬

বনের ভেতর সিসা তৈরির কারখানা, হুমকির মুখে পরিবেশ

বাঘাবাড়ী নৌবন্দর খুঁড়িয়ে চলছে