আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সেই হাতি হত্যার ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে ২ মামলা

news-image

কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালংয়ে বৈদ্যুতিক ফাঁদে ফেলে বন্য মা হাতি হত্যার পর মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খণ্ড খণ্ড করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। জমির মালিকসহ ১২ জনকে আসামি করে আদালত ও থানায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলা করেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। এ মামলায় বৈদ্যুতিক ফাঁদপাতা জমির মালিক নজির আহমদকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে একই দিন ভোররাতের কোনো একসময় বৈদ্যুতিক ফাঁদে ফেলে হাতিটি হত্যার পর সবার চোখ ফাঁকি দিতে হাতির মাথা, পাসহ শরীরের নানা অঙ্গ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। পরে সেদিন দুপুরে সেসব খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে বন বিভাগ।

ধোয়াপালং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার পাদদেশ ও আশপাশে জোত (খতিয়ানভুক্ত) জমি রয়েছে। এখানে চাষ করা ফসলে হাতির পাল হানা দেয়। ফসলে হাতির হানা রোধে অনেকে আইনবহির্ভূতভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ পাতে। গত বছরের শেষ দিকেও এভাবে একটি হাতি মারা যাওয়ার পর বৈদ্যুতিক ফাঁদ না পেতে চাষাবাদ করতে গত জানুয়ারিতে সচেতনতামূলক সভা ও মাইকিং করা হয়।

সেখানে বলা হয়, হাতির পাল ফসল নষ্ট করলে আবেদনের ভিত্তিতে বন বিভাগ যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেবে। বন্যপ্রাণীর চলাচল রোধে এভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদপাতা বেআইনি। এর কঠিন শাস্তি রয়েছে। এর পরও বন্যপ্রাণী হত্যা গোপন তত্পরতা করছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় হাতিটিকে হত্যার পর নৃশংসভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। তিনি নিজে বাদী হয়ে একটি মামলা আদালতে এবং অপর মামলাটি থানায় রুজু করেছেন বলেও জানান তিনি।

ঘটনাটিতে নজির আহমদ হাতি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি মতেই ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের জন্য মৃত হাতির আলামত সংগ্রহ করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা জানান, কক্সবাজারের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় সেখানে বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে একীভূত হয়ে বসবাস ও চাষাবাদ করতে হয়। কিন্তু ফসলের ক্ষতি রোধে বন্যপ্রাণীদের হত্যার অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনা চরম নৃশংস। এটার যথোপযুক্ত শাস্তি হলে অন্যরা এমন কাজ করতে ভয় পাবে আশাব্যক্ত করেন তিনি।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ জানান, দুর্বৃত্তরা হাতিটি হত্যার পর তার শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে মাটিচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সকাল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানালে সত্যতা পেয়ে জমির মালিককে আটক করেন হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হুমায়ুন কবির জানান, নজির আহমদসহ অন্য অভিযুক্তরা বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। অন্যদের মতামতের ভিত্তিতে তাদের সে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি পাহাড়ের এসব এলাকায় দেওয়া বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্নকরণে ব্যবস্থা নিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানানো হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

জনগণের টাকায় আমাদের সংসার চলে : ডিসিদের রাষ্ট্রপতি

সিদ্ধিরগঞ্জে সেনা সদস্য হত্যার ঘটনায় ৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় ৪ ইটভাটার মালিককে ২১ লাখ টাকা জরিমানা

টাঙ্গাইলে তিন ইটভাটা ধ্বংস, ৯ টিকে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা

সাড়ে ৬ কোটি টাকা পাচারের চেষ্টা ঢাকার আরএম সোর্সিংয়ের

বহিষ্কার করলেও দল পরিবর্তন করবো না : তৈমূর

নদীতে মাটি কাটায় ট্রাক্টর জ্বালিয়ে দিলেন ইউএনও

পুলিশের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

‘ডিসিরাও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি করবেন’

ফেরি ও ঘাট সংকটে তীব্র যানজট

দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্পিডবোট ব্যবসা বন্ধের অভিযোগ

নাসিক নির্বাচন : পুত্রবধূর কাঁধে চড়ে বৃদ্ধার ভোট