আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

সৈকতে চোখের জলে মাকে বিদায়, লাখো মানুষের ঢল

news-image

ঢাকঢোল, তবলা ও বাঁশিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বুধবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়।

পাঁচ দিনের হৃদয় মাতানো দুর্গোৎসব শেষে আবেগ-উচ্ছ্বাস আর চোখের জলে দুর্গাদেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেন ভক্তরা। এ উপলক্ষে লাবণী পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত মঞ্চে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিকাল থেকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে আসতে শুরু করে জেলার ৩০৫ মণ্ডপের প্রতিমাগুলো। ধীরে ধীরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সব ধর্মের মানুষের ঢল নামে সৈকতে। বিকাল ৫টার দিকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টের তিন কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সবার আগমনে বাংলাদেশ যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে অনন্য একটি দেশ, এটি তার প্রমাণ বলে মনে করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ছুটিতে সৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের দিন হওয়ায় সৈকতে নতুনমাত্রা যোগ হয়েছে। এতে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যায় সৈকতে নামেন লাখো পর্যটক। তবে স্থানীয় পর্যটকের সংখ্যা বেশি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। সম্প্রতির সেতুবন্ধন তৈরিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানে সামিল হন অন্য সম্প্রদায়ের মানুষজনও। অশ্রুসজল চোখে আরও একটি বছরের জন্য দেবীকে বিদায় জানানো হয়। আগামী বছর দেবীর আগমনের আশায় বুক বাঁধবেন তারা। দশমি মূলত দুর্গাপূজার প্রধান অনুষঙ্গ। দেবী দুর্গা কৈলাশে ফিরেছেন। তবে ভক্তদের কষ্ট লাঘবে আগামী বছর আবার আসবেন।

প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সমুদ্রসৈকতে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার কাজে মাঠে তৎপর ছিল র‌্যাব। এছাড়া আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য কাজ করেছেন।

সকাল থেকে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপগুলোতে বিদায়ের সুর বেজে ওঠে। পূজামণ্ডপগুলোতে দেবী দুর্গাকে বিদায় দিতে অশ্রুসিক্ত দেখা যায় ভক্তদের। বিকাল থেকে মণ্ডপগুলো থেকে প্রতিমা বহনকারী ট্রাক সমুদ্রসৈকতে আসতে থাকে। এ সময় লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে চলে প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান ও ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি উজ্জ্বল কর বলেন, ‘এবার জেলার ৩০৫ মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৮টি প্রতিমা পূজা আর ১৫৭টি ঘট পূজা। প্রতিটি মণ্ডপে ছোটবড় ছয়টি প্রতিমা ছিল। এর অধিকাংশ প্রতিমা সমুদ্রসৈকতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলায় রূপ নেয় সমুদ্রসৈকত। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা সুবর্ণ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা বন্ধুবান্ধব প্রতি বছর প্রতিমা বিসর্জন দেখার জন্য সৈকতে আসি। গত বছর করোনার কারণে আসতে পারিনি। এবার লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। অনেক আনন্দ লাগছে।’

ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সুধর্ম ও প্রিয়া বলেন, ‘প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্যটি অভূতপূর্ব। সৈকতে এই মিলনমেলা না দেখলে বোঝা যাবে না—বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা রনজিত বড়ুয়া বলেন, ‘সাপ্তাহিক বন্ধ ও পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছি। প্রতিমা বিসর্জনের দিনে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দেখে খুবই উচ্ছ্বসিত আমরা। অনেক ভালো লাগছে।’

সৈকতের বালিয়াড়িতে দেখা গেছে, ভক্ত ও দর্শনার্থী ছাড়াও দেশ-বিদেশের লাখো পর্যটক প্রতিমা বিসর্জনে শামিল হয়েছেন। সৈকতের ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বেলাভূমিজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। এ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।
নির্বিঘ্নে উৎসব করতে আগে থেকেই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয় পুরো জেলায়। প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে ভক্তদের যেন ভোগান্তি না হয় এবং অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেন্টু দাশ বলেন, ‘এ বছর জেলায় ৩০৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে।’

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, ‘তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদারের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। শুধু সৈকত এলাকায় কয়েকশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে কলাতলী থেকে আশপাশের সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। সুন্দর পরিবেশে উৎসব শেষ হয়েছে।’

এ জাতীয় আরও খবর

বগুড়া নাব্য সংকটে যমুনা

সরকারি খালের মাটি যায় চেয়ারম্যানের ইটভাটায়

শ্রীনগরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু আসছে

লোহাগাড়ায় বালু উত্তোলনের গর্তে ভাসছিল হাতিশাবকের লাশ

বালু ব্যবসায়ী কাউছার হত্যা: বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

দুর্ভিক্ষের কবলে যেন পড়তে না হয়, সতর্ক হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সচিবদের সঙ্গে বৈঠক

হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ নবজাতককে উদ্ধার, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

জঙ্গিদের বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদকে পদোন্নতিজনিত বিদায়

বাঞ্ছারামপুর বার্তার সম্পাদককে হুমকীর প্রতিবাদে মানববন্ধন

অসময়ে ভাঙনে চিন্তার ভাঁজ ৫০ লক্ষাধিক মানুষের কপালে

অতীতের মতো বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ক্ষমতা দখলের সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী