আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

স্ত্রীকে অস্বীকার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে

news-image

খুলনায় এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে বিধবা নারীকে বিয়ে করে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়া, জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা এবং সামাজিক মর্যাদা চাওয়ায় ভুক্তভোগী নারীকে প্রাণনাশের অভিযোগ উঠেছে। জেলার পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সরদার ইব্রাহিম হোসেন সোহেলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী নারী এক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে। তিনি সোহেলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন। অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক ইব্রাহিম সোহেলকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাইকগাছার নাজিরঘাট এলাকায় ভুক্তভোগী নারীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন সোহেল। এসময় তার সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করেন। একপর্যায়ে ওই নারী কৌশলে ঘরের বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। সোহেলকে তার ঘরে আটকে রেখে খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানকে ফোন করেন। ফোনে সোহেলের সকল অপকর্ম তুলে ধরে আটকে রাখার কথা জানান। পুলিশ সুপার তখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই সোহেল বাসায় থাকা বটি দিয়ে দুটি দরজা ভেঙ্গে বের হন। বের হয়ে উপস্থিত সকলকে শাসিয়ে চলে যান। এরপর ঘটনাস্থলে আসেন তানভীর আহমেদ। তিনি ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ওই নারীকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পরে ওই নারী পুলিশ ‍সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
সোহেল সর্বশেষ পাইকগাছা থাকার ওসি তদন্ত হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তার রয়েছে। আর ভুক্তভোগী নারী একজন পুলিশ কর্মকর্তার কন্যা।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী এক কন্যা সন্তান রেখে গত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে মারা যায়। বাবা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় সোহেলের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পুনরায় বিয়ে দিতে বাসা থেকে তার জন্য ছেলে দেখছিল। যে ছেলের সাথে বিয়ের কথা হয় সোহেল তাতেই বাঁধা দেন। এক পর্যায়ে ধর্মের কথা বলে সোহেল তাকে ২য় বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। রেজিস্ট্রি ছাড়া ৫ লাখ টাকা কাবিনে কলমা পড়ে বিয়েও হয়। এতে সোহেলের দু’জন বন্ধু স্বাক্ষী ছিল। এরপর চাকরি বাঁচানোর কথা বলে সোহেল কোনভাবেই বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চায়নি।
তিনি বলেন, কিন্তু নিয়মিত তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে। গত জুন মাসে সোহেলের করোনা ধরা পরে। অসুস্থ্য অবস্থায় সোহেল তার প্রথম স্ত্রীকে এই সম্পর্কের বিষয়টি জানায়। তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ফোন করেন। এরপর ফোনে সোহেল তার স্ত্রীর সামনে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে ও তাকে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ দিয়ে ফোনটি কেটে দেয়। পরদিন সকালে সোহেল ওই নারীর কাছে ক্ষমা চায় আর বলে ‘আমার স্ত্রীর সামনে আমি বলতে বাধ্য হইছি।’ পরে সে সুস্থ হয়ে প্রলোভন দেখিয়ে আবারও তার সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে।
এরপর ভুক্তভোগী নারী সোহেলকে বাচ্চা নেওয়া বা বিয়ে রেজিস্ট্রি করার কথা বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তখন ওই নারী তাকে ছেড়ে (ডিভোর্স) দেওয়ার জন্য বললে সোহেল তা না করে উল্টো তাকে হুমকি দিতে থাকে। সর্বশেষ ১৫ জুলাই সে ওই নারীর বাসায় আসে আবারও জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে। এক পর্যায়ে সে বাথরুমে গেলে তাকে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে এসপিকে ফোন করেন ওই নারী। পুলিশ সুপার লোক পাঠানোর আগেই সোহেল দরজা ভেঙ্গে বের হয়ে
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘বাসায় দু’টি দরজা ভাঙ্গার কারণে বাড়িওয়ালা আমার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে আর বাসা ছেড়ে যেতে বলেছে। এসপি সাহেব এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সোহেলকে বললেও সে দিতে রাজি হচ্ছে না। আমি লিখিত অভিযোগ তুলে নিলে তবেই সে ক্ষতিপূরণ দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ সুপার অফিস থেকে আমাকে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে। আমি সোহেলর বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা করব।’
এবিষয়ে খুলনার পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসান জানান, ‘এঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন। আমরা ইতোমধ্যে ইব্রাহিম সোহেলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করেছি। তদন্ত শেষে সত্য মিথ্যা জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওই নারীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি আমাকে ফোনও করেছিলেন।’
অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক ইব্রাহিম সোহেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই নারীর বাবা আমার সাবেক সহকর্মী। তিনি ঢাকায় কর্মরত। সেই সুবাদে আমি তাদের নানা রকম সহযোগীতা করে আসছি। এমনকি তার (ভুক্তভোগী নারী) ছোট বোনকে আমি থেকেই বিবাহ দিয়েছি। সে আমার প্রতি দুর্বল হয়ে এসকল অভিযোগ করেছেন।’
বিয়ে এবং দরজা ভেঙ্গে বের হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো মিথ্যে। অন্য লোকদের দিয়ে দরজা ভেঙ্গে আমাকে বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। আর প্রশাসনিক কারণে আমাকে ক্লোজ করা হয়েছে।