আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

স্বপ্নপূরণের দিন গণনা আমন্ত্রণ পাবেন বিএনপিসহ সব দলের নেতারা

news-image

শুরু হলো স্বপ্নপূরণের দিন গণনা। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতুতে আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় যান চলাচলের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় এখন সারাদেশ।

পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সংযোগে ১ জুন সেতুতে বাতি জ্বালানোর কথা সপ্তাহ দুয়েক ধরে শোনা গেলেও, তা হচ্ছে না বলে প্রকল্প সূত্র সমকালকে জানিয়েছে। উদ্বোধনের ১০ দিন আগে আগামী ১৫ জুন বাতি জ্বালানো হতে পারে বলে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তাঁর তথ্যানুযায়ী, রোড মার্কিং ও কার্পেটিংয়ের (পিচঢালাই) কাজ শেষ হলেও মূল সেতুতে রেলিং স্থাপনের কাজ এখনও বাকি, তা শিগগির শুরু হবে।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিদিন কী কাজ হবে তা তাঁর জানার কথাও নয়। আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে সব কাজ শেষ হবে। এ নিয়ে সংশয় নেই।
একদিকে সেতুর কাজ, অন্যদিকে চলছে উৎসবমুখর উদ্বোধনের প্রস্তুতি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ পদে আসার আগে প্রায় আট বছর সেতু বিভাগের সচিব হিসেবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেছেন, জমকালো অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা হবে পদ্মা সেতু। সারাদেশে উৎসব হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন
করবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

সেতু বিভাগ আয়োজনের মূল দায়িত্বে থাকলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী, জেলা প্রশাসনসহ প্রায় সব সংস্থার অংশগ্রহণ থাকবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) ঊর্ধ্বতন একজন কমর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, মাওয়া প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পার হওয়ার মাধ্যমে সেতুর উদ্বোধন করা হবে। জাজিরা প্রান্তে জনসভায় ভাষণ দেবেন সরকারপ্রধান। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উন্মোচন করবেন শেখ হাসিনা। মাওয়াপ্রান্তে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর ম্যুরাল।

সেতু বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাদের আমন্ত্রণ করা হবে তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের নাম রয়েছে তালিকায়। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের নামও রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা আমন্ত্রণ পাবেন, তা নির্ভর করছে পুলিশের বিশেষ বিভাগের (এসবি) যাচাই-বাছাইয়ের ওপর।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঋণ চুক্তি বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশে ঝড় তুলেছিল বিশ্বব্যাংকের ওই সিদ্ধান্ত। দুর্নীতির সব অভিযোগ নাকচের ফলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ করা হবে কিনা- এ প্রশ্নে সেতু কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকাল বলেছেন, তাদের অবশ্যই দাওয়াত দেওয়া হবে।

খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে জাজিরায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকালে অনুষ্ঠান হওয়ায় আলোকসজ্জা ও আতশবাজি হবে না। রাজধানীবাসী যেন উৎসবে শামিল হতে পারেন, সেজন্য ২৫ জুন রাতে হাতিরঝিলে আলোকসজ্জা ও আতশবাজি থাকবে। ৬৪ জেলায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সেতুর রেপ্লিকা তৈরি করে উৎসব করা হবে। এতে সরকারি সব পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির অংশগ্রহণ থাকবে। মূল অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথিদের উপহার দিতে গঠন করা হয়েছে স্যুভেনির উপকমিটি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ মুদ্রা ও স্মারক রৌপ্যমুদ্রা বাজারে ছাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৯৯৮ সালে প্রাক্‌-সমীক্ষার মাধ্যমে প্রমত্ত পদ্মায় সেতু নির্মাণে যে স্বপ্নের বীজ বপিত হয়েছিল, তা সিকি শতাব্দীর চড়াই-উতরাই শেষে ২৫ জুন পূরণ হবে। শেখ হাসিনার নামে সেতুর নামকরণের প্রস্তাব করা হলেও তা অনুমোদন করেননি সরকারপ্রধান। পদ্মা নদীর নামেই সেতুর নামকরণ করে গত রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

২০০১ সালের ৪ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলেও ২০০৩ সালে শুরু হয়ে ২০০৫ সালে মার্চে শেষ হয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা যাচাই। ৫৪ মাসে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেতুতে দৈনিক গড়ে ৪১ হাজার ৬০০ যানবাহন চলবে। সারাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি এক দশমিক ২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপির প্রবৃদ্ধির দুই দশমিক তিন শতাংশ বাড়াবে পদ্মা সেতু।

২০০৭ সালে ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরে পদ্মা সেতু প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। ২০০৯ সালে হয় বিস্তারিত নকশা। ট্রেন চালাতে দ্বিতল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তে ব্যয় বেড়ে হয় ২২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। তখন পরিকল্পনা ছিল ২০১৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হবে। বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় ২০১৫ সালে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু চালু করার লক্ষ্য থাকলেও প্রাকৃতিক ও কারিগরি বাধায় তা হয়নি।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা লাগছে ছয় দশমিক ১৫ পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণে। ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। টোলের টাকায় ঋণ শোধ ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। গত ১৭ মে টোল হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেতু বিভাগ।

এ জাতীয় আরও খবর

পদ্মা সেতু: শিল্পের জন্য প্রস্তুত গোপালগঞ্জ

এখন যানবাহনের অপেক্ষায় ফেরি

ফেরিতে পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এলো ছোট গাড়ি

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ

মানিকগঞ্জে পদ্মা সেতুর লাইভ অনুষ্ঠানে অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সাংবাদিক গ্রেপ্তার

উল্লাসে মেতেছে পদ্মা পাড়ের মানুষ

চার মাস না যেতেই উঠছে ৯ কোটি টাকার সড়কের পিচ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পিঠা উৎসব

নদী ভাঙা মানুষের বিলাপ

সাঁতরে মঞ্চে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলল কিশোরী

বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ উপহার স্বাধীনতা, আর প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠ উপহার পদ্মা সেতু : পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী

সেতুর উদ্বোধনে ফায়ার সার্ভিসের শোভাযাত্রা