আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতা উত্তোলন, ১২ কার্ড বাতিল

news-image

স্বামীকে মৃত দেখিয়ে সমাজসেবার আওতায় বিধবা ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারানদিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১২ নারী।
এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয় জন প্রতিনিধি ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টনক নড়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের।
গত ২৬ আগস্ট নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর স্থানীয় এলাকার এক যুবকের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় এ সব ভাতার কার্ড বাতিল করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সেইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার পর প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. আলাল উদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভাতা পাওয়ার যোগ্যদেরকে এর আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সারা জেলায় এমন আরও জালিয়াতি করে ভাতা নিচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক বলেন, ১২ জনের মধ্যে দুজন নারীর স্বামী চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ফিরে এসেছে। এগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্ডগুলো ইস্যু করতে জনপ্রতিনিধির সহায়তা লাগে সেজন্য যদি কেউ তথ্য গোপন করেন সেটি অনেক সময় বোঝা যেত না। ফলে এমন ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সকল ধরনের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। যাচাই বাছাইও হচ্ছে। যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দেয় সেটি সফটওয়ার নিজেই ধরে ফেলে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সফটওয়ারের মাধ্যমে এখন বয়স দেখা হয়। যেমন ইতোমধ্যেই কেন্দুয়া উপজেলায় জাল জালিয়াতি করে বয়স বাড়িয়ে কার্ডধারী ৭০০ জনের ভাতার কার্ড বাতিল হয়েছে। এতে করে প্রকৃত ভাতাভোগীরা আবেদন করতে পেরেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, জেলায় বিধবা ভাতার মোট ৪৭ হাজার ২৭৮ জনের মধ্যে পূর্বধলায় পাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৪৩ জন। তার মধ্যে পূর্বধলা উপজেলার নারানদিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বারের যোগ-সাজসে একটি চক্র গ্রামে গ্রামে সচ্ছল কৃষকদের টার্গেট করে সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে দেওয়া হয় বিধবা ভাতার কার্ড। আর এসকল কার্ডের মাধ্যমে গত ২০১৮ সন থেকে প্রদেয় ভাতার ৬ মাসে ৩০০০ করে অর্থ উত্তোলন করে আসছিলেন তারা।

স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা ভাতার কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলনের ঘটনা এলাকায় প্রকাশ পেলে সর্ব সাধারণের মধ্যে এবং প্রকৃত বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ জাতীয় আরও খবর