আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভিড়

ঈদের দিন হলেও করোনা মহামারীর কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন, বিধিনিষেধ। গণপরিবহন চললেও জনসমাগম এড়াতে বন্ধ রয়েছে সব বিনোদনকেন্দ্র। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল ঘরেই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপনের। কিন্তু ঈদের দিন বিনোদনপ্রত্যাশী মানুষকে রোখে কার সাধ্য। তাই সব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই তারা ভিড় করেছিলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, চন্দ্রিমা উদ্যান, সংসদ ভবন, ধানমন্ডি লেক, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ একটু খোলামেলা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধিও। অনেকের মুখেই ছিল না মাস্ক।

ঈদের দিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের পানির ফোয়ারা ঘিরে দেখা গেছে মানুষের ভিড়। কেউ প্রিয়জনের ছবি তুলে দিচ্ছেন, কেউ আবার ব্যস্ত সেলফি তোলায়। ভিড়ের মধ্যে অনেকের মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। অনেকে মাস্ক পরলেও সেটি নামিয়ে রেখেছেন থুতনিতে। একই চিত্র ছিল টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

এদিন হাতিরঝিলের রাস্তা, সেতু, লেকের চারপাশেও ভিড় করেছিল মানুষ। কেউ এসেছিলেন ব্যক্তিগত গাড়িতে, কেউ মোটরসাইকেল, কেউ আবার অটোরিকশায় চড়ে। অনেকে ভাড়া করা পিকআপভ্যান নিয়েও চলে এসেছিলেন দলবেঁধে। একপর্যায়ে ওইদিন বিকাল নাগাদ হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে হাতিরঝিলে। ফলে কয়েক লেনে বিভক্ত সড়কগুলোর মোড়ে মোড়ে দেখা দেয় যানজট। বিকালে রামপুরা প্রান্ত দিয়ে হাতিরঝিল

ঢুকে একটু সামনে এগিয়ে অপেক্ষা করছিলেন সিফাত, রুনা, আবিরসহ একদল কিশোর-কিশোরী। কোন দিকে যাবেন, কোথায় বসবেন, ভিড়ের কারণে সেই দিশা পাচ্ছিলেন না তারা। সিফাত বলেন, কোথাও বসার জায়গা নেই। রেস্টুরেন্টগুলোতেও উপচেপড়া ভিড়। আমরা কোন দিকে যাব এখনো ঠিক করিনি। দুপুরে কয়েজন বন্ধুকে নিয়ে হাতিরঝিলে বেড়াতে আসেন দোকান কর্মচারী হাসিব শরীফ। বিকাল চারটার দিকে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। হাসিব শরীফ বলেন, অনেকক্ষণ ঘোরাফেরা করলাম। ভিড় বেড়ে গেছে, আর থাকা যায় না।

রাজধানীর গোলাপবাগ থেকে স্ত্রী, দুই ছেলেসহ সিএনজি অটোরিকশায় করে হাতিরঝিলে এসেছিলেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। প্রতিবছর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদ করলেও এবার আর যাননি তিনি।

তিনি বলেন, শুনেছি চিড়িয়াখানা খোলা নেই। আশপাশে কোনো শিশু পার্কও খোলা নেই। ঘোরাফেরার জন্য হাতিরঝিল খুব সুন্দর জায়গা। তবে লোকজন বেড়ে যাওয়ায় গরমটা একটু বেশি লাগছে।

এদিন চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের সংসদ ভবনসংলগ্ন লেকের পাড়ে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সাধারণত সংসদ ভবনের লেকসংলগ্ন সড়কে বসতে দেওয়া হয় না। তবে আজকে ঈদের দিন এখানে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জায়গাটা খুব সুন্দর লাগছে।