আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তিস্তা ব্যারেজে হাজার হাজার মানুষ

news-image

তিস্তা ব্যারেজে গেলে বোঝার উপায় নেই দেশে করোনা পরিস্থিতি মহামারি আকার বিরাজ করছে। ঈদের দিন মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও ঈদের পরের দিন থেকে সেখানে পা রাখা ভার। করোনা ভাইরাসের এই মহামারির মধ্যেও পরিবার পরিজন নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে সকলেই।
ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। সাঁতার না জানলেও শত শত উঠতি বয়সী যুবক নদীতে সাঁতার প্রতিযোগিতা করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছে এলাকাবাসী।

করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও তিস্তা ব্যারেজে কোনো কিছুই মানা হচ্ছে না। ঈদের আনন্দকে কাজে লাগিয়ে মৌসুমী জুয়াড়িরা ব্যারেজ সংলগ্ন জমজমাট জুয়ার আসর বসিয়েছে।

তিস্তার বুকে দ্রুত বেগে এক পাশ থেকে আরেক পাশে ছুটে চলছে স্পিডবোট বা শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা। হৈ-হুল্লোড়ে মেতে উঠছেন সবাই। ছোট বড়, শিশু কিশোর, তরুণ-তরুণী এমনকি বৃদ্ধদেরও মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে তিস্তা পাড়। বিভিন্ন এলাকা থেকে তিস্তা ব্যারেজে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন সবাই।

কেউ বাস, মোটরসাইকেল কেউ মাইক্রোবাস আবার কেউ ইজিবাইকে করে ঘুরতে এসেছেন। নানা রকম পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। বিভিন্ন খেলনা, বাঁশি, বেলুন, মাটির গাড়ি, খাবারের দোকান রয়েছে এখানে। এছাড়া নদীর বুকে ভাসমান বেশ কিছু পালতোলা নৌকা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের। নীলফামারীর সুটিবাড়ী, ডালিয়া, লালমনির হাটের সাধুর বাজার হয়ে তিস্তা ব্যারেজের প্রবেশ করতে তীব্র যানজট পোহাতে হচ্ছে।

নীলফামারী, ডোমার, জলঢাকা, সৈয়দপুর, পঞ্চগড়, দেবীগঞ্জ, লালমনিরহাট, পাটগ্রাম, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষে ভরে গেছে তিস্তাপাড়। করোনা ভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি থেকে হাঁপিয়ে গেছেন তাই ঘুরতে এসেছেন বলে জানান এসব মানুষ।

তিস্তা নদীতে এখন ভরপুর পানি। উজানের ঢল আসছে। তিস্তার পাড়ে দাঁড়ালে বাতাসে শোনা যায় পানির শব্দ ও ঢেউ। হিমালয় থেকে নেমে আসা এ নদীকে ঘিরে দু’পাড়ের মানুষ গড়ে তুলেছে বসতি ও জীবিকা, নীল জল আর সবুজের রঙে প্রকৃতি এঁকেছে শ্যামল ছবি। ফিরে এসেছে জীববৈচিত্র্য।

দিনাজপুর থেকে ঘুরতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, দেশের সব বিনোদন কেন্দ্রগুলো সরকার বন্ধ করায় ঈদের আনন্দে তিস্তা পাড়ে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শতে তিস্তা ব্যারেজের আনছার ক্যাম্পের এক সদস্য জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ডালিয়া নতুন বাজার থেকে তিস্তা ব্যারেজের উত্তর সাধুর বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ আনসারসহ পাউবো কর্মকর্তারা উভয় পাশে ব্যারেজে গাড়ি প্রবেশের কড়াকড়ি করলেও থামানো যাচ্ছে না।