আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

স্বাস্থ্যের ডিজি ও মন্ত্রীকে ঘিরে কৌতূহল!

news-image

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ঘিরে কখনো প্রকাশ পাচ্ছে তাঁদের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের চিত্র। আবার কখনো খবর উঠে আসছে, দুজনের বন্ধন একই সুতোয়। এ নিয়ে কৌতূহলে এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে তাঁদের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা মহলের ভেতরের নতুন মেরুকরণ নিয়ে। আবার কোনো কোনো গণমাধ্যমে মন্ত্রী-মহাপরিচালককে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগের মতো খবরের সূত্র ধরেও প্রভাবশালী চিকিৎসকদের মধ্যে এই মেরুকরণের প্রকাশও ঘটছে প্রকারান্তরে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম মনে হয়। সবাই জানি, স্বাস্থ্য খাতে এখন পর্যন্ত মূল নীতিনির্ধারণী পরিক্রমায় বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক নেতাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। ভেতরে মহাপরিচালকের ওপর প্রভাব খাটানো নিয়ে এক ধরনের মহড়া চলে সব সময়ই। চলতি পরিস্থিতির ভেতর থেকে আমরা কেউ কেউ নতুন একটি বিষয় টের পাচ্ছি। বিশেষ করে এত দিন যাঁদের দেখেছি মহাপরিচালকের ওপর খেপে আছেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন হঠাৎ করেই পাল্টে গেছেন। তাঁরাই এখন মহাপরিচালকের সঙ্গে সখ্য গড়ছেন বা তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার যাঁরা এত দিন মহাপরিচালককে নিজেদের লোক বলে কাছে রেখেছেন তাঁদের কেউ কেউ ঘুরে গেছেন, নতুন সুর ধরেছেন। এ ক্ষেত্রে এই মহাপরিচালক যদি না থাকেন তবে তাঁর স্থলে কে আসবেন না আসবেন, সে বোঝাপড়ার বিষয়টি বড় হয়ে উঠেছে।’

আরেক কর্মকর্তা আরেকটু খুলে বলেন, পরিস্থিতির মুখে অনেকের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়ে যে—যেকোনো সময় বর্তমান মহাপরিচালকের পদে পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে চার-পাঁচজন আশায় বুক বেঁধে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন। সেখানে কারো হিসাব মিলছে, কারো মিলছে না। কেউ আবার ভাবছেন, বর্তমান মহাপরিচালকের জায়গায় অন্য কেউ এলে হয়তো এই মুহূর্তে যে পরিস্থিতি চলছে, তা সামাল দেওয়া নতুনের পক্ষে কারো কঠিন হবে বা পরিস্থিতি এখনকার চেয়েও আরো খারাপ হতে পারে। আরেক অংশ চিন্তায় পড়েছে মহাপরিচালক পদে পরিবর্তন এলে তাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে না হবে—তা নিয়ে।

অন্যদিকে মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে একই পরিস্থিতি। তাঁর স্থলে হঠাৎ করেই দুই-তিনজনের নাম উঠে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। যাঁদের মধ্যে কমপক্ষে একজন নারীর নামও এগিয়ে রাখছেন কেউ কেউ। তবে এ ক্ষেত্রেও মেরুকরণ ঘটেছে চিকিৎসক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে। সেখানেও যাঁরা বর্তমান মন্ত্রীকে এত দিন কিছুটা হলেও ‘প্রশ্রয়’ দিয়েছেন তাঁরা এখন তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকছেন। আবার যাঁরা তাঁকে এত দিন ভালোভাবে দেখেননি তাঁরা এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে তাঁর পক্ষে থাকার চেষ্টা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, কেউ মনে করছেন এই মন্ত্রীকে যত সহজে চাপের মুখে ফেলা যায়, অন্য কেউ এলে হয়তো সেটা সম্ভব হবে না বরং তাঁদের ক্ষেত্রে বিপদ আরো বাড়তে পারে। এমনকি তাঁদের নেতৃত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেদিক থেকে এত দিন এই মন্ত্রীর বিরোধী চিকিৎসক নেতাদের কেউ কেউ অবস্থান পাল্টে ফেলেছেন বলে দৃশ্যমান হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের কথাবার্তায়।

একদিকে মন্ত্রী ও মহাপরিচালক—দুজনের সমীহ পান এমন একাধিক নেতা গত দুই-তিন ধরেই তৎপর হয়েছেন মন্ত্রী ও মহাপরিচালকের মধ্যে দূরত্ব ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’র অবসান ঘটিয়ে তাঁদের মিলিয়ে দিতে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা কিছুটা সফল হওয়ার পথে বলেও জানা গেছে। তবে ওই সূত্রের মতে চিকিৎসকদের ভেতরে এখন আমলাবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। প্রকারান্তরে তাঁরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে চিকিৎসকদের পদায়নে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে একজোট হয়ে দাবি তোলার দিকে এগোচ্ছেন। তাঁরা স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিভাগে স্বাস্থ্যবহির্ভূত ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন। তাঁদের ভেতর ভয় ঢুকেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে কোনো অচিকিৎসককে বসানো চেষ্টা হচ্ছে কি না তা নিয়ে।

এ বিষয়ে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা মোকাবেলা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার একটি আবেদন করেছি। এখনো সাড়া পাইনি, অপেক্ষায় আছি। তবে পরিস্থিতি অনুসারে এটুকু বলতে পারি—মন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালকের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এটা না হলেই ভালো হতো।’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিস্টেমে গলদ থাকলে কেবল মন্ত্রী বা মহাপরিচালক পাল্টালে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হবে না। যদি তাই হতো তবে এত বছরে যে কজন মন্ত্রী, সচিব বা ডিজি পরিবর্তন হয়েছে তাতে আর দুর্নীতি অনিয়ম থাকার কথা নয়। তাই আগে সিস্টেম ঠিক করা জরুরি।’

এ জাতীয় আরও খবর

পল্লবী থানার ভেতর বিস্ফোরণ সন্ত্রাসীরা জঙ্গিদের ভাড়া করা?

জেকেজির দুই হাজার রিপোর্টে গরমিল, দ্রুতই অভিযোগপত্র

সাবেক সচিবের দখলে আস্ত চর

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা’র হস্তক্ষেপে আরিচায় লঞ্চে মটরসাইকেল পাড়াপাড় বন্ধ

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের তিন কর্মকর্তাকে কাল জিজ্ঞাসাবাদ করবেদুদক

সোনারগাঁয়ে নদী দখল করে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী-ডিজিকে ঘিরে বাইরে যখন ধোঁয়াশা, ভেতরে চলছে অস্থিরতা

হাতিয়ায় প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আইএমইডি’র প্রতিবেদন ছোট প্রকল্পে বড় অনিয়ম

বাগেরহাটে অবৈধভাবে বালু তোলায় লাখ টাকা জরিমানা

করোনায় মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে, সুস্থ ১,০৮,৭২৫

গা ঢাকা দিয়েছে স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়ারা। সাহেদ-সাবরিনা কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। শক্তিশালী এই সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।