আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

হবিগঞ্জে দখল-দূষণে হুমকির মুখে নদ-নদী

news-image

নদীমাতৃক দেশের হবিগঞ্জে বর্তমানে নদীর সঠিক তথ্য না থাকলেও ৫০ বছর আগে এই জেলায় ৫০টিরও অধিক নদীর অস্তিত্ব ছিল। এখন সব মিলিয়ে ১৫-২০টির মতো নদীর দেখা মিলে যার বেশিরভাগই রয়েছে দখলদারদের কবলে। দখল-দূষণসহ নানা কারণে হুমকির মুখে রয়েছে এখানকার নদ-নদীগুলো।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যে নদীগুলো হুমকির মুখে রয়েছে এর মধ্যে কালনী, কুশিয়ারা (ভেড়ামোহনা), মরা কুশিয়ারা, মরা বিবিয়ানা, হাওয়াই, শুটকী, ঝিংড়ী, ঘরদাইর, রত্না, শাখাবরাক, করাঙ্গী, বিজনা, খোয়াই, সুতাং, সোনাই, বছিরা, হাঙ্গরভাঙা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে নদীগুলোয় পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় সরু খালে পরিণত হয়েছে।

নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত, দীর্ঘদিন ধরে নদ-নদীগুলো ড্রেজিং না করে নদীর দুই পাড় দখল করে অবকাঠামো নির্মাণ, নদীগুলো থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় নদ-নদীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এমনকি হাওর অঞ্চল মরুভূমির রূপ ধারণ করতে চলেছে।

সরেজমিন ঘুরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, একদিকে চলছে নদী দখল, অন্যদিকে শিল্পের নামে কলকারখানার বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে নদীকে। সুতাং, খোয়াই ও পুরনো খোয়াই নদী বর্তমানে অত্যন্ত সঙ্কটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। খোয়াই নদী ভারত থেকে জলসীমিতকরণের আওতায় পড়ে ক্ষীণতোয়া হয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে কিছু মানুষের অসৎ কর্মকাণ্ডের ফলে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সুতাং নদী। নদীর ভেতর অবকাঠামো নির্মাণ, অপরিকল্পিত এবং অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন, নদী দখল এবং দূষণের ফলে অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে আমাদের নদীগুলো।

সুতাং নদীতে এখন কালো কুচকুচে পানি। অথচ একসময় খরস্রোতা সুতাং নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা চলাচল করত। নদীর পানি দিয়ে আশপাশের লোকজন ফসল ফলাতেন। পাওয়া যেত দেশীয় প্রজাতির মাছ। এখন আর সেই চিত্র নেই। যৌবন হারিয়েছে নদীটি। সুতাং নদীর এই পরিণতির কারণ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মুমিন বলেন, নদী বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে খনন প্রয়োজন। এ ছাড়াও দখল-দূষণ বন্ধ না হলে নদীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার তোফাজ্জল সোহেল জানান, বিশ্ব নদী দিবসে বাপা ও খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপারের যৌথ আয়োজনে খোয়াই নদীতে নদী পরিভ্রমণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ ও যথাযথভাবে নদী খনন করে খোয়াই নদীর গতিপথ ঠিক রাখতে হবে। আমাদের নদীগুলোকে বিলীন হওয়া থেকে বাঁচাতে সতর্ক হতে হবে।