আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

হরিরামপুরের ঝিটকা খালের মুখ ও কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট

news-image

খালের মুখ ও সংলগ্ন এলাকা বালু দিয়ে ভরাট করায় বিপাকে পড়েছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা দফাদারপাড়ার কৃষকেরা। তাঁরা বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন। দুই-তিন সপ্তাহ আগেও খালের মুখ ছিল খোলা। এখান দিয়ে কয়েক হাজার একর কৃষিজমির পানি নামত গঙ্গাসাগর নদীতে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাট বসানোর জন্য ১৭৬ শতাংশ কৃষিজমিসহ খালটির বিশাল অংশ বালু দিয়ে ভরাট করেছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।

সরেজমিন মঙ্গলবার দেখা গেছে, দফাদারপাড়ার ঝিকুটিয়া মৌজায় ৩০ ফুট চওড়া খালের ১৬২ ফুট দীর্ঘ অংশসহ পাশের ১৭৬ শতাংশ কৃষিজমি ভরাট করা হয়েছে পদ্মা নদীর বালু দিয়ে। দুই সপ্তাহ ধরে রাত-দিন অবৈধভাবে বালু এনে ওই জায়গা ভরাট করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা এলাকার ইছামতি নদী থেকে শুরু হয়ে খালটি দফাদারপাড়া, পোদ্দারবাড়ী সেতু, গুড়াইল, বেজদি, জিগাতলা, নৌহাটা, কাইমখোলা ও শালকাই গ্রাম দিয়ে গঙ্গাসাগর নদীতে মিশেছে। দুই পাশে রয়েছে শত শত একর কৃষিজমি। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পথ হচ্ছে ওই খাল।

স্থানীয় কৃষক রহমত আলী বলেন, দফাদারপাড়া এলাকায় তাঁর ৫২ শতাংশ জমি রয়েছে। সেখান থেকে খাল দিয়ে ধীরে ধীরে পানি নামছিল। কিন্তু মুখ ভরাট করায় এখন পানি আর জমি থেকে নামছে না। এতে জমিটি জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে বলে তাঁর আশঙ্কা।

দফাদারপাড়ার আজাহার আলী বলেন, যে জমিতে বালু ভরাট করা হয়েছে, এর পাশে তাঁর ৩৫ শতাংশ ও ভাই শহীদের ১২ শতাংশ জমি রয়েছে। প্রতি বছর তিনি জমি থেকে ৯০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন করেন। ড্রেজারের পাইপ দিয়ে ভরাট করা বালু এসে তাঁর জমিতেও পড়েছে। এতে তাঁর জমিতে আর কৃষিকাজ করা যাবে না।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে হাট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে একটি প্রভাবশালী মহলের। যে কারণে ভরাট করা হয়েছে। সেখান থেকে ঝিটকা বাজারের যাওয়ার একটি নতুন রাস্তা হবে। তাই ব্যবসায়ীরা মিলে জমি কিনে সেখানে বালু দিয়ে ভরাট করা হয় বলে জানান বাবুল হোসেন নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, প্রতি শতাংশ জমি ভরাটের জন্য যুবলীগ নেতা ফরিদ মোল্লাকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। খালের মুখ বন্ধ করার বিষয়ে বাবুল বলেন, পানি যাতায়াতের জন্য সেখানে পাইপ দেওয়া হয়েছে।

খালের দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, খালের নিচে দেড় ফুটের যে পাইপ বসানো হয়েছে, তা দিয়ে বর্ষার পানি নামবে না।

কৃষিজমির মালিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঝিকুটিয়া মৌজায় তাঁদের পরিবারের ১৭৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন জনের কাছে দুই লাখ টাকা শতাংশ হিসেবে ১৫৪ শতাংশ বিক্রি করেছেন। যাঁরা জমি কিনেছেন, তাঁরা বাড়তি ১২ শতাংশ জমিসহ হাট বসাবেন।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মোল্লা বলেন, যাঁরা জমি কিনেছেন, তাঁদের সঙ্গে শতাংশপ্রতি ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে তিনি ভরাট করে দিয়েছেন। পদ্মার বুক থেকে বালু তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, এনায়েতপুর ও নাজিরগঞ্জ থেকে বাল্ক্কহেডে করে বেপারিরা যে মাটি আনেন, তা দিয়ে ওই জমিটি ভরাট করেছেন।

ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাল ও কৃষিজমিতে ভরাট করার সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সেখানে লোক পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাস্থলে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাজ করার সময় চাবি জব্দ করা হয়। খালটি কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না, সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

আনোয়ারায় বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মাটিকে গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নাশকতা মামলায় বিএনপির বদলে আ.লীগ নেতা আটক পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মী

ধোপাজান নদীর বালু-পাথরের টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে

পদ্মার চরে মাটি-বালু লুট চলছেই

শঙ্খ নদী থেকে বালু উত্তোলন, জরিমানা

চাঁঁদপুরের মেঘনা পাড়ের মাটি কাটায় ৪ জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জরিমানা আদায়

টাঙ্গাইলে চায়নার ডেইরি ফিডের জন্য নিশ্চিহ্ন হচ্ছে জমি ও শতাধিক বাড়ি

আমরা উন্নয়ন করি, আর বিএনপি মানুষ খুন করে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

‘অনরা ক্যান আছন’, চট্টগ্রামে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী