আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

হাতকড়া পরিয়ে যুবককে নির্যাতন, তদন্ত শুরু

news-image

যুবককে হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বুধবার ভুক্তভোগী যুবক মারুফ সিকদারের পরিবারকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ডেকে আনা হয়।

ভুক্তভোগী মারুফ নগরীর কাউনিয়া বেগের বাড়ির এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার মারুফকে হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতনের ভয়াবহ ভিডিও চিত্র ফাঁস হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে হাতকড়া পরিয়ে নিজ কক্ষে এক যুবককে বেধড়ক পেটাচ্ছেন বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবদুল মালেক। এ সময় ওই যুবক চিৎকার-আর্তনাদ করেও তাঁর নির্যাতন থেকে মুক্তি পাননি। মারধরের এক পর্যায়ে যুবকের মাথা পা দিয়ে চেপে কয়েক দফা পেটানো হয়। এ সময় যুবকের হাতকড়া খুলে তাঁর হাতে ইয়াবা দিয়ে নেওয়া হয় স্বীকারোক্তি। নির্যাতনের শিকার ওই যুবক পানি পান করতে চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।

এই ভিডিও ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট দপ্তরটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারই আলোকে আজ মারুফের পরিবারকে ডেকে আনা হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে কথা বলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নির্যাতিত যুবক মারুফের মা বলেন, ‘আমি আল্লাহ কাছে বিচার দিয়েছি। আমার ছেলে যদি অপরাধী হয়, তবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দিবেন। আর যদি আমার ছেলে অপরাধ না করে থাকে তাহলে যারা আমার ছেলেকে নির্যাতন করেছে তাদের বিচার হবে।’

মারুফের বাবা মো. বাদশা মিয়া জানান, ডাক বেচাকেনা নিয়ে একটি ঝামেলা হয়। সেই কারণে আমার ছেলেকে হাতে ইয়াবা দিয়ে ধরে নির্যাতন করা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী যুবক মারুফ সিকদার বলেন, ‘আমারে ধরে এনে নির্যাতন করে ইয়াবা ধরাইয়া দিসে। আমি সঠিক বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এখানে আইন বহির্ভুত যে কাজ হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’