আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

হালদাপাড়ে পরিবেশ ধ্বংসকারী ইটভাটা

বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ঘোষিত দক্ষিণ এশিয়ার কার্পজাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছিল অবৈধ ইটভাটা। তবে উচ্ছেদের পরপরই দুটি ইটভাটার একটি ফের চালু করে সংশ্লিষ্টরা। এখন অন্যটিও চালুর উদ্যোগে সচেতন মহল ও হালদা বিশেষজ্ঞদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

নদী সুরক্ষা আইনে হালদাপাড়ের একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ইটভাটা গড়ে তোলা নিষিদ্ধ হলেও ইটভাটা দুটির মালিকরা তা মানছেন না। বর্তমানে তিনটি ইটভাটা হালদাপাড়ে ইট তৈরি করছে। বিশেষ কায়দায় নদীর পেট কেটে তোলা হয় মাটি ও বালু। নদী থেকে উত্তোলন করা এসব মাটি ও বালু দিয়ে তৈরি হয় ভাটার ইট। আবার দূষিত ভাটার ধোঁয়ার কারণে নদীতে বিচরণ করা জীববৈচিত্র্য পড়ছে হুমকির মুখে। ফলে হালদার মা মাছ, ডলফিনসহ জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ইতিমধ্য একাধিক ডলফিনের মৃত্যুর জন্য এসব ইটভাটাকেও দায়ী করছেন সচেতন মহল ও হালদা বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, গত বছর ১১ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোকামীপাড়ার দক্ষিণ সীমান্তে হালদার পাড় ঘেঁষে গড়ে তোলা এ. আলী নামে একটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বছর না যেতেই এ ইটভাটা আবারও চালুর জন্য হালদা থেকে মাটি এনে স্তূপ করা হচ্ছে এবং নদী ও পরিবেশ দূষণকারী ড্রাম চিমনি তৈরির কাজ শেষ করে চালুর অপেক্ষায় রয়েছে ইটভাটাটি।

এ ছাড়া হালদাপাড়ের একই উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখিল গ্রামে শান্তি ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটায় চলতি মাসে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্যদিকে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামে হালদার তীর ঘেঁষে আজমির অটো ব্রিকস নামে আরেকটি ইটভাটায় পুরোদমে কার্যক্রম চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হালদাপাড়ে ফের চালুর জন্য চিমনি তৈরি ও মাটি কেটে স্তূপ করে এ. আলী ইটভাটায় ইট উৎপাদনে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিক ফিল্ডের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহেদ বলেন, ‘ইটভাটা চালুর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা আছে। যদি আবেদন মঞ্জুর করা হয়, তাহলে তা চালু করা হবে।’ আজমির নামে আরেকটি ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি রয়েছে বলে তিনি জানান।

হালদাপাড়ে অবৈধ ইটভাটা ফের চালু করা প্রসঙ্গে নদী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর সুরক্ষা আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, হালদাপাড়ের একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অর্থাৎ পাড়ের কাছাকাছি প্রাণী ও উদ্ভিদ আবাসস্থল ধ্বংস, ভূমি ও পানি প্রাকৃতিক, পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এমন কোনো কিছু স্থাপন করা যাবে না। এতে এসব ইটভাটাই হালদাপাড়ের একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় অবশ্যই আইনবহির্ভূত।’

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে হালদাপাড়ে গত বছর অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়। তবে কেউ পরিবেশ ধ্বংসকারী কোনো কার্যক্রম, হালদা নদীর ক্ষতিকর কোনো ইটভাটা স্থাপন ও কার্যক্রম চালালে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুস সামাদ শিকদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা এখন জাতীয় সম্পদ। এই নদীর পাড়ে দখল-দূষণ করে ইটভাটা চালানো যাবে না। ইতিমধ্যে কয়েকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।’ হালদা নদী দখল-দূষণ থেকে বাঁচাতে এসব ইটভাটায় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর

১৫১ প্রতিমা নিয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন

স্বজন হারানোর আহাজারির মাঝেই চলছে অবৈধ বালু তোলার মহোৎসব

নূরুল ইসলাম রাজা দ্বিতীয়বার মানিকগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত

শ্রীবরদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিদায়ী র‌্যাব ডিজি

কক্সবাজারের রামু বাঁকখালীর বাঁকে বাঁকে অবৈধ ড্রেজার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা মিলেমিশে নদীর ২৫টি অংশে ৫০-৫৫টি খননযন্ত্র বসিয়ে দৈনিক ৫০০ ট্রাক বালু তুলছেন।

নিলামে বালু বিক্রি, ১৩ সরকারি কর্মকর্তাকে চিঠি বেলার

মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে নিলামে বালু দিলেন ইউএনও

অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন হুমকিতে শত কোটি টাকার সেতু

ভূঞাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন

তথ্য অধিকার আইন, দোরগোড়ায় সুফল পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী