আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

১০ কোটি টাকার সড়ক ধ্বংস ১২ পুকুর মাফিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাজশাহী জেলাজুড়ে পুকুর খনন ও ইটভাটার মাটি ছাড়াও বালু বহন ট্রাকের চাকায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ও সংস্কার করা সড়কের ক্ষতি হচ্ছে প্রতি বছর। ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো।

এসব নিয়ে এতদিন কোনো প্রশাসন মাথা না ঘামালেও সম্প্রতি রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১০ কোটি টাকার সড়ক অবকাঠামা ধ্বংসের অভিযোগে থানায় এজাহার দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান। এ জন্য দায়ী করা হয়েছে ১২ পুকুর মালিককে। তবে অভিযোগ উঠেছে, তারা প্রকৌশলীর অভিযোগ প্রত্যাহারে নানাভাবে তদবির শুরু করেছেন। তদন্ত ঘোরাতে চাপও দিচ্ছেন পুলিশকে।

অভিযুক্তরা হলেন জিয়া হোসেন, আমির আলী, আবদুল মান্নান, সাজ্জাদ হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, ময়েন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম, মহব্বত আলী, মহসিন আলী, আলতাফ হোসেন, জুয়েল শেখ ও পাতু মণ্ডল। তাদের বাড়ি পুঠিয়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন তারা কৃষিজমিতে নির্বিচারে পুকুর খনন করছেন। আর পুকুর কাটার মাটি বিভিন্ন ইটভাটাসহ অন্যান্য স্থানে বহনে ব্যবহার করছেন ভারী যানবাহন। প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, গ্রামীণ সড়কগুলোর সহনক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭ টন।

কিন্তু মাটি খননকারীরা ১০ থেকে ১৫-২০ টনের ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পার ব্যবহার করেন। ফলে সড়কগুলো সংস্কারের এক বছরের মধ্যেই দেবে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে সরকারের। পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েক বছরে শুধু পুঠিয়া এলাকায়ই ফসলি জমি নষ্ট করে চার শতাধিক পুকুর কাটা হয়েছে। কৃষির জন্য এটা অশনি সংকেত। পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, প্রকৌশলীর দেওয়া অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।