আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

১৫১ প্রতিমা নিয়ে বড় দুর্গাপূজার আয়োজন

দেশসেরা বাগেরহাট সদর উপজেলার শিকদার বাড়িতে এবার ধুমধাম ছাড়াই রীতি মেনে দুর্গাপূজা আয়োজন হবে। তবে একই এলাকায় বনিকপাড়ায় ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা নিয়ে বাগেরহাটে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার মধ্যে দুর্গাপূজার বড় এই আয়োজনকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে সাজসাজরব। শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও আয়োজকরা।

বাগেরহাটের চুলকাঠি বনিকপাড়া দুর্গামণ্ডপের ভিতরে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়বে রাস্তার ধারে দেব-দেবীর প্রতিমার সারি। সর্বশেষ মূল মণ্ডপে রয়েছে দুর্গা ও তার সহযোগী দেবীদের প্রতিমা। দুই মাস ধরে ৪ জন কারিগর রামায়ণ ও মহাভারতের ৪ যুগের দেবদেবীর নানা কাহিনী অবলম্বনে এই প্রতিমা তৈরি করেছেন। সবমিলিয়ে এখানে ১৫১টি প্রতিমার একেকটিকে কারিগর তাদের নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলেছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য।

ইতোমধ্যে চুলকাঠির এই বনিকপাড়া পূজামণ্ডপের নাম মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই মূল পূজা শুরু না হলেও, এখনই বিভিন্ন স্থান থেকে জেলার সব থেকে বড় এই আয়োজন দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন।

খুলনা বিএল কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ডলি দত্ত বলেন, এত বড় আয়োজন আমরা আগে কখনো দেখিনি। খুব ভালো লাগছে আমাদের।

দেবী দত্ত নামের স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, আমাদের এলাকার অনেক মুসলিমরাও এসেছেন এত বড়ে এ আয়োজন দেখতে। স্থানীয় সবাই একসঙ্গে এবার আমরা এই উৎসব করব।

তিনি বলেন, ১৫১টি প্রতিমার কথা শুনে অনেক দূর থেকেও এখানে আসার জন্য খোঁজ নিচ্ছেন।

ববিউল ইসলাম বলেন, এত বড় আয়োজন এখানে আগে কখনো হয়নি। আশাকরি অনেক লোক আসবে, আমরা বেশ আনন্দিত জাঁকজমক আয়োজন দেখে।

প্রতিমার তৈরির কারিগর গণেশ সরকার বলেন, ১৫১টি প্রতিমার মাধ্যমে আমরা রামায়ণ ও মহাভারতের চার যুগের দেবদেবীর নানা কাহিনী ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আশাকরি দর্শনার্থী ও ভক্তদের ভালো লাগবে।

বনিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি দিপংকর কুমার সাধু বলেন, করোনার কারণে দুই বছর দুর্গাপূজায় আমরা ঠিকঠাক আয়োজন করতে পারিনি। এবার মনের মতো আয়োজন করেছি। জেলার মধ্যে এটাই বড় আয়োজন। আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি শেষ, আশাকরি অনেক লোকজনের সমাগম হবে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার ৬৬৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ১৬৮টি মণ্ডপে পূজা হবে চিতলমারী উপজেলায়। এছাড়া বাগেরহাট সদর উপজেলায় ১১৬টি, মোল্লাহাটে ৮৪টি, মোরেলগঞ্জে ৭৭টি, ফকিরহাটে ৬৮টি, কচুয়ায় ৪৪, রামপালে ৪১, মোংলায় ৩৭ এবং শরণখোলায় ২৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারে সেজন্য কাজ করছে জেলা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিটি মণ্ডপে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকও থাকার কথা রয়েছে। তবে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা নেই।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক বলেন, প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন প্রদান অর্থাৎ দশমী পর্যন্ত আমরা নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আশাকরি সবাই মিলে উৎসব মুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারব।

১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) দশমী ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গা মহোৎসব শেষ হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

অভিযানের খবরে ড্রেজার রেখে পালালেন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা

আনোয়ারায় বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মাটিকে গুরুত্ব দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নাশকতা মামলায় বিএনপির বদলে আ.লীগ নেতা আটক পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলীয় নেতাকর্মী

ধোপাজান নদীর বালু-পাথরের টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে

পদ্মার চরে মাটি-বালু লুট চলছেই

শঙ্খ নদী থেকে বালু উত্তোলন, জরিমানা

চাঁঁদপুরের মেঘনা পাড়ের মাটি কাটায় ৪ জনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

নালিতাবাড়ীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, জরিমানা আদায়

টাঙ্গাইলে চায়নার ডেইরি ফিডের জন্য নিশ্চিহ্ন হচ্ছে জমি ও শতাধিক বাড়ি

আমরা উন্নয়ন করি, আর বিএনপি মানুষ খুন করে: প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে ২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর