আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

১৬০ ইউপি ও ৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে

news-image

সারা দেশে স্থগিত থাকা ১৬০ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ৯টি পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। সব পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হচ্ছে।

একই দিন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এবং দুটি পৌরসভার একটি করে ওয়ার্ডে উপনির্বাচন চলছে। ইতোমধ্যে তিনটি পৌরসভায় মেয়র, ৪৪ ইউপি চেয়ারম্যান, ৩৯ ইউপি সদস্য এবং সাতজন সংরক্ষিত সদস্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ওই সব পদ বাদে বাকিগুলোতে ভোটগ্রহণ চলছে আজ। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বাদে ইউপিতে ৮ হাজার ৭১০ ও পৌরসভায় ৪৮৬ প্রার্থী লড়ছেন।

নির্বাচন ঘিরে সংশ্লিষ্ট অনেক এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, প্রচারে বাধা, নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরসহ বিভিন্ন ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। অনেক ইউপি ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, দেশে প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ১১ এপ্রিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় ১ এপ্রিল তা স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ জুন ২০৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছিল। তখন ১৬৭ ইউপির নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। তবে প্রার্থী মারা যাওয়ায় ৫টি, মামলাজনিত কারণে ১টি এবং আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের কারণে ১টি ইউপিতে আপাতত ভোট হচ্ছে না। সেই হিসাবে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ১৬০ ইউপি এবং ৯টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে। এছাড়া ৯টি পৌরসভার সব ক’টিতে এবং ১৬০ ইউপির মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

ইসি জানান, প্রতি ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ২২ জনের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ৯২ জন নির্বাহী হাকিম ও ৫৭ জন বিচারিক হাকিম দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ডের সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যে প্রস্তুতি নিয়েছে তাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এরই মধ্যেই ৩০ শতাংশ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

ইউপি : ৬ জেলার ২৩ উপজেলার ১৬০ ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ৫০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইতোমধ্যে ৪৪ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৬০ ইউপির মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে ভোটের আগেই বাগেরহাট, খুলনা ও চট্টগ্রামের ৪৪টি ইউনিয়ন পরিষদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগেরহাটে। জেলাটিতে ৬৬টি ইউপির মধ্যে ৩৮টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। বাকি ২৮ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিনা ভোটে জয়লাভ করা ইউপির মধ্যে বাগেরহাটের বাইরে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ৪টি এবং খুলনার ১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আজ যেসব জেলায় ইউপি নির্বাচন হবে এর মধ্যে খুলনায় ৩৪টি, বাগেরহাটে ৬৬টি, সাতক্ষীরায় ২১টি, নোয়াখালীতে ১৩টি, চট্টগ্রামে ১২টি ও কক্সবাজারে ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।

ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, নির্বাচনি উপকরণ জেলায় পৌঁছে গেছে। প্রশিক্ষণ হয়েছে। মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে, আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছি তাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আশা করি।

উল্লেখ্য, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপিতে কয়েক ধাপে ভোট হবে। গত ৩ মার্চ প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউপির ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। করোনার কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। ২১ জুন ২০৪টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।