আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

৪ বছরেও শেষ হয়নি সেতু নির্মাণের কাজ, মানুষের ভোগান্তি

news-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বনগজ সেতুর নির্মাণ কাজের সময়সীমা এক বছর ধরা হলেও সাড়ে চার বছরেও এর নির্মাণ শেষ হয়নি। সেতুটির নির্মাণ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। সেতু না হওয়ার কারণে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।

সেতুটি নির্মাণ হলে স্বল্প সময়ে এবং কম খরচে উপজেলা সদরসহ জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারতো মানুষ। তবে, ঠিকাদারের দাবী, সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন এবং বর্ষার কারণে নির্মাণ কাজে দেরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া বড় বাজার থেকে ধরখার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার একটি সড়ক রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে উপজেলার পশ্চিপাঞ্চল ধরখার ইউনিয়নের ১৫-১৬ টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রেলওয়ে স্টেশন, স্কুল-কলেজে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ সড়কটি ব্যবহার করে। এতে সময় এবং কম খরচও কম লাগে।

জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের বনগজ এলাকায় একটি খালে কুড়ের কারণে যানবাহন চলাচল করতে সমস্যা হতো। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে খাল পারাপার করতে হতো। সন্ধ্যার পর বিপাকে পড়তো মানুষ। এলাকাবাসীর এ দুর্ভোগ লাঘবের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সেখানে একটি সেতুন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

২০১৮ সনের ২৩ ফ্রেব্রুয়ারি তিনি সেতু নির্মাণের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। যার দৈর্ঘ ৯৬.১০ মিটার দীর্ঘ ও প্রস্থ সাড়ে ৫ মিটার। সেতুর দরপত্র মুল্য ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৪১ হাজার ৯২৭ টাকা। সময় ধরা হয় এক বছর। কিন্তু গত সাড়ে ৪ বছরেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে উইং ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে ৬ টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর পূর্ব দিকের অংশে ৩ টি গাডার ডালাই করা হয়েছে। ৪ জন শ্রমিক সেতুতে কাজ করছে। মানুষ নৌকায় চড়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।

সেতুর কাজে নিয়োজিত নির্মাণ শ্রমিক সোহেল রানা বলেন, সেতুর মূল কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন গাডার ঢালাইয় এবং ছাদ দেওয় হবে। ৩টি গাডার ঢালাই হয়ে গেছে। ৯টি গাডারের উপর ৩টি ছাদ দেওয়া হবে। তাহলেই সেতুর কাজ শেষ হবে।

এসময় মোঃ আজমাইল নামে এক যুবক অভিযোগ করেন, ঠিকাদার অল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কারণে এত দেরি হচ্ছে। ৪/৫ বছর ধরে কাজ করতেছে এখনও কাজ শেষ হয়না। মনে হয় আগামী ১ বছরেও কাজ শেষ হবে না।

জান্নাতুল ফেরদৌস তুলি নামে নারী বলেন, এ সেতুটি নির্মাণ হলে আমরা স্বল্প সময়ে উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারব। সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় অনেক ঘুরে চলাচল করতে হয়। রাতের বেলা প্রয়োজনে যাতায়াত করা যায় না।

হেবজু মিয়া নামে এক প্রবীণ বলেন, এর চেয়ে বড় বড় সেতু তৈরি করতেছে সরকার। আর এ সেতুটি বছরের পর বছর ধরে শেষ হয় না। এজন্য ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালক মো: কামরুজ্জামান বলেন, সড়কটি নির্মাণ হলে আখাউড়া থেকে ধরখার পর্যন্ত সরাসরি যাত্রী নিয়ে যেতে পারতাম। এতে আমাদেরও আয় রোজগার বেশি হতো। যাত্রীদেরও অনেক সুবিধা হতো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেতুর ঠিকাদার মোঃ খাইরুল হাসান বলেন, সেতুর ডিজাইনে ত্রুটির কারণে কাজ শুরু করতে অসুবিধা হয়। ডিজাইন পরিবর্তন করার পর কাজ শুরু করি। এখন কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব।

এ ব্যপারে আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, দুই বার সেতুর ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে যে গভীরতা হিসাব করে ডিজাইন করা হয়। পরবর্তীতে বর্ষার কারণে নদীর গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় ডিজাইন পরিবর্তন করতে হয়। এজন্য সেতুটি নির্মাণে দেরি হচ্ছে। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

ডিউটি ফাঁকি দিয়ে চাঁদাবাজিতে তাঁরা

তদন্তকাজে দীর্ঘসূত্রতা -দুদককে আরও গতিশীল হতে হবে

চাহিদামতো ট্রাক দিচ্ছে না বিআরটিসি সরবরাহ সংকটে সারের দাম দ্বিগুণ

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত আ.লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত

আফ্রিকা থেকে কেউ এলে বোর্ডিং পাস পাবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রেজিস্ট্রেশনের টাকাসহ অধ্যক্ষ উধাও, বিশেষ ব্যবস্থায় ২৫৮ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা

শপথ নেওয়ার আগেই না ফেরার দেশে নবনির্বাচিত মেম্বার

সড়কে প্রাণ হারালেন রাজশাহী বারের সভাপতি মোজাম্মেল

‘প্রতি বছরই করোনার টিকা নিতে হবে’

এক বছরেও বর্ধিত বেতন পাননি সিনিয়র স্টাফ নার্সরা

বাসায় বেড়াতে এসে শিশু চুরি, ১১ দিন পর উদ্ধার

বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ঘাড়ে ২২ হাজার মামলা