আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

৫ বিঘা জমির মালিকের কাছেও ভিজিডি কার্ড!

news-image

রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার জিউপাড়া ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের বাসিন্দা সারতি রানী ২০২১-২২ সালে ২৪ মাসের জন্য ভিজিডি কার্ড পান। দুস্থ ও অসহায়দের জন্য নির্ধারিত এ কার্ড পাওয়া সারতি রানীর রয়েছে ৫ বিঘা জমি। সেখানে তিনি কৃষিকাজ করেন। ৮ শতক জমির ওপর ৪ রুমের একটি টিনের বাড়ি থাকা সারতি রানী চলতি বছরে স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকায় ১৫ কাঠা ফসলি জমিও কিনেছেন। একই এলাকার আফাজ উদ্দীনের স্ত্রী মোসা. দুলজান বেগমও চলতি বছরের ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন। ৪ বিঘা জমির মালিক দুলজানেরও রয়েছে ১৪ শতাংশ জমির ওপর টিনের বাড়ি। একইভাবে পুঠিয়ার পূর্ব কানাইপাড়ার বাসিন্দা মোছা. রুমা বেগমের স্বামী এনামুল মোল্লা আমের ব্যবসাসহ কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রুমা বেগমের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছেলে উজ্জ্বল দেশে এসে ১২ কাঠা জমির ওপর বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি ব্যবসা শুরু করেছেন। তিনিও পেয়েছেন দুস্থ ও অসহায় মহিলাদের জন্য নির্ধারিত মাসিক ৩০ কেজি চালের এ কার্ড। ভিজিডি কার্ড বিতরণের এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে মূলত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য হেলেনার অনিয়মের কারণে। এমন তথ্য উঠে এসেছে সরকারের দায়িত্বশীল একটি সংস্থার প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী ভিজিডি কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অসচ্ছল মহিলাদের সচ্ছল করার লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্দেশনা উপেক্ষা করে অসচ্ছল মহিলার তালিকায় সুবিধা লাভের বিনিময়ে সচ্ছল মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এতে অসচ্ছল মহিলাসহ জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকা-ে সরকারের জনপ্রিয়তা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে পারে বিধায় দেশব্যাপী ভিজিডি কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনয়ন প্রয়োজন।’

সংস্থাটি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত মাসের ৪ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠায়। এরপর জননিরাপত্তা সচিব স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের ২২ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আবু জাফর রিপন রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি দেন।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব (ইউনিয়ন পরিষদ) মো. আবুজাফর রিপন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা খুব কঠোর অবস্থানে আছি। এক্ষেত্রে কে কোন দলের সমর্থক সে বিষয় দেখা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজনকে অপসারণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এখানে অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ত্রাণ বিতরণে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে সরকারি ত্রাণের আওতা আরও বাড়ানো হয়। এসব ত্রাণ বিতরণেও কতিপয় জনপ্রতিনিধি অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সরকার ত্রাণ বিতরণে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর মাধ্যমে যেসব জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে তাদের বিরুদ্ধে নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ভিজিডি কার্ডের জন্য মহিলা নির্বাচনের জন্য সরকারের বেশকিছু নির্দেশনা রয়েছে। মূলত দুস্থ মহিলাদের মধ্য থেকে ভিজিডি কার্ডের জন্য নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে। দুস্থ ও অসহায় মহিলা যেমনপরিবার প্রধান, বিধবা, স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন, স্বামী পরিত্যক্তা, তালাকপ্রাপ্ত, অসুস্থ, কর্মক্ষমতাহীন পঙ্গু স্বামীর স্ত্রী। পূর্বের ভিজিডি কার্ডধারী কোনো মহিলাকে নতুন করে নির্বাচন করা যাবে না বলেও বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি পরিবার মাত্র একটি ভিজিডি কার্ড পাবে। এছাড়া যে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি বা দলের আওতাভুক্ত; যেমনআরএমপি এবং এনজিও গ্রুপের সদস্যা, সে ব্যক্তি ইউপি ভিজিডি কর্মসূচির সুবিধা পাবে না। কার্ডের নির্বাচিত মহিলাদের দুস্থতার মাপকাঠি ভূমিহীন অথবা দশমিক ৫০ একরের চেয়ে কম জমির মালিকানা রয়েছে। তবে এসব নিয়মের ধার-ধারছে না অনেক জনপ্রতিনিধি।

সম্প্রতি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবুল হাশেম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, সরকারের দেওয়া ভিজিডি কার্ড ও রেশন কার্ড ৯টি ওয়ার্ডে স্বামী ও স্ত্রীর নামে মোট ৪০টি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়াও ভিজিডি কার্ড অন্য ইউনিয়নের লোকের নামে বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও করেন ক্ষমতাসীন দলের এ দুই নেতা। একই ধরনের অপরাধে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন শিকারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ২০২১-২২ অনুমোদিত তালিকার বাইরে ১২৫টি ভিজিডি কার্ড অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এ ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারের জন্য আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর করোনা মহামারীর সময় সরকারের ত্রাণ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, নগদ অর্থসহায়তায় অনিয়মের দায়ে ১০৮ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান এবং ৭১ জন ইউপি সদস্য। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ১০ জনকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া আটজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর ২৮ জন আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে স্বপদে ফিরেছেন। বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিদের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক। যাদের বিরুদ্ধে চাল চুরি, ত্রাণ লুট, উপকারভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি এবং নগদ সহায়তার অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

এ জাতীয় আরও খবর

শেখ রাসেলের জন্মদিনে ৫৮ কেজি ওজনের কেক কাটলেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন ১৮ চেয়ারম্যান

‘প্রশাসনে বাংলাদেশি যেমন আছে, অসংখ্য পাকিস্তানিও আছে’

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আহ্বান

শিশু শ্রমে নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মতবিনিময়

বিএনপি-জামায়াত বা তৃতীয় শক্তির জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পীরগঞ্জে জেলে পল্লিতে হামলার প্রতিবাদে দিনাজপুরে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

উপকূলে ৩নং সতর্ক সংকেত, দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

‘শেখ রাসেল স্বর্ণ পদক’ বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

কোন শিশুকে যেন রাসেলের ভাগ্যবরণ করতে না হয়: প্রধানমন্ত্রী

ফতুল্লায় মিশুক চালককে হত্যার দুই ঘাতক গ্রেপ্তার