আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

৭ দিনের লকডাউন

news-image

দেশব্যাপী আজ ৫ এপ্রিল সোমবার থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে রবিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বাস-ট্রেনসহ সকল প্রকার গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানও বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরী পরিষেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুত, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা, সংবাদমাধ্যমসহ অন্যান্য জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক সপ্তাহ লকডাউনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষকে যাতে সুরক্ষা দিতে পারি সেই ব্যবস্থাপনার জন্যই লকডাউন। জানি, সকলের একটু কষ্ট হবে। তারপরও বলব জীবনটা বড়, জীবনটা আগে। রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদে করোনার নতুন স্ট্রেইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের ভাইরাসটা কতটুকু ক্ষতি করল তা চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু হঠাৎ অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এজন্য সাবধান থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ জানাচ্ছি। কাজেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিয়েসহ সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। পর্যটন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিদেশ থেকে এলে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, শপিংমল বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য অনলাইনে কেনাবেচা ও লোক মারফত পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা তারা করতে পারবে। ১১ এপ্রিল নির্বাচন ছিল, তা স্থগিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করার পরই মানুষ যেন ডেসপারেট (মরিয়া) হয়ে গেছে। তারা মনে করছে কিছুই হবে না। সবাই অবাধে চলাফেরা শুরু করে দিয়েছে। এই অবাধ চলাফেরা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আগে দেখেছি বয়স্করা সংক্রমিত হয়। এবার দেখছি তরুণ, এমনকি শিশুরাও সংক্রমিত হচ্ছে। তাদেরও সুরক্ষিত রাখতে হবে। সবাইকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা, টিকা, ভ্যাকসিন সব ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এক দফা টিকা দিয়েছি। দ্বিতীয় ডোজ শুরু করব। আরও টিকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব। কোথাও বের হলে ঘরে ফিরে গরম পানির ভাপ নেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গার্গল করবেন। এতে খুবই উপকার হয়। ভাইরাসটা নাকের ভেতর সাইনাসের ওখানে বাসা বাঁধে। নাকে ভাপ নিলে ও গার্গল করলে ওটা দুর্বল হয়ে যায়।

সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুসারে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। কোন অবস্থাতেই হোটেল- রেস্তরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এবারের লকডাউনে, কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ অথবা স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

এতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালুর কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আড়াই ঘণ্টা ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত লেন-দেন করা যাবে। পুঁজিবাজার দিনে দুই ঘণ্টা করে খোলা থাকবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রসঙ্গত, গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের সাধারণ ছুটি চলাকালীন দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো সীমিত আকারে লেনদেন চালু রেখেছিল। ওই সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন চলত। আর ব্যাংক খোলা থাকত বেলা ৩টা পর্যন্ত।

লকডাউনের মধ্যে কোন প্রকার গণপরিবহন চলবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরী পরিষেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুত, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্র) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা, সংবাদমাধ্যমসহ অন্যান্য জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

আজ ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত নির্দেশনা মেনে চলাচল করতে হবে। নির্দেশনাগুলো হলো- ১. সব ধরনের গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা, জরুরী সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। সংবাদমাধ্যম জরুরী সেবাদানের আওতাভুক্ত। এছাড়া, বিদেশগামী/বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

২. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরী পরিষেবা যেমন- ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুত, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্র) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরী ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

৩. সব সরকারী/আধাসরকারী/ স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারী অফিস কেবল জরুরী কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেয়া করতে পারবে। শিল্প-কারখানা ও নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া করতে হবে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কর্তৃক শিল্প-কারখানা এলাকায় নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাদের শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল/চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। কোনও অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

৫. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বাবস্থায় কর্মচারীদের মধ্যে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কোন ক্রেতা সশরীরে যেতে পারবে না। ৬. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। ৭. ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিত পরিসরে চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

৮. সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ৯. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে। ১০. এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।