আমরা নিরপেক্ষ নই আমরা সত্যের পক্ষে

বাবার বিপুল অর্থবিত্তই দিহানের উচ্ছন্নে যাওয়ার বড় কারণ

news-image

রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে গ্রেফতার হওয়া ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাবা আব্দুর রউফ সরকার ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। আর মা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ঘনিষ্ঠতা ছিল তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে।

এমন তথ্য জানায় রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার রাতুগ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামেই দিহানের পরিবার থাকেন।

দিহানের বাবা আব্দুর রউফ পৈতৃক জমি সম্পত্তি বাদেই বিভিন্ন স্থানে কিনেছেন শতাধিক বিঘার বেশি জমি। আছে আরও সম্পত্তি। রাজশাহী শহরে রয়েছে দুটি ভবন। বিপুল ধনসম্পদের মালিক হওয়ায় গ্রামেও রয়েছে দিহানের পরিবারের ব্যাপক প্রভাব।

এ কারণে নিজের নাম পরিচয়ে মন্তব্য করতে রাজি নয় গ্রামের মানুষরা। পরে তাদের ক্ষতি হবার আশঙ্কাও আছে।

গ্রামবাসীর মতে, বাবার বিপুল অবৈধ অর্থ দিহানদের উচ্ছন্নে যাওয়ার বড় কারণ।

রাজশাহীর দুর্গাপুর রাতুগ্রামের বাসিন্দা দিহানের বাবা আব্দুর রউফ বিভিন্ন স্থানে সাব-রেজিস্ট্রার ও রাজশাহী এবং ঠাকুরগাঁও জেলাতে জেলা রেজিস্ট্রার ছিলেন। ২০০৯ সালে অবসর নেন। চাকরি জীবনে বিপুল সম্পদ গড়েছেন দিহানের বাবা। শুধু নিজগ্রাম রাতুগ্রামেই কিনেছেন ৮০ বিঘা ফসলি জমি ও আমবাগান। রাজশাহীর অভিজাত এলাকা পদ্মা আবাসিক ও নগরীর সাগরপাড়ায় দুটি বহুতল বাড়ি আছে। পার্শ্ববর্তী এলাকা নওগাঁর আত্রাইতেও জমি কিনেছেন।

এদিকে দিহানকে ঢাকায় রেখে স্কুল মিডিয়াম স্কুলে পড়ানো হলেও দিহানের বড় ভাই সুপ্ত মাদকাসক্ত। বাবা রউফ গ্রামে থাকেন সুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে। মা দিহানকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের মানুষদের রউফ পরিবারের সুপ্রতিবেশিসুলভ সম্পর্ক নেই বলে গ্রামের মানুষেরা জানিয়েছেন। ছোটখাটো কোন ঘটনা হলেই মামলা মোকদ্দমা দিয়ে গ্রামের মানুষকে হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বাবার বিপুল অবৈধ সম্পদের কারণে স্বভাব ও আচরণে দিহান কিংবা তার ভাই সুপ্তের জীবনও উচ্ছৃঙ্খল হয়েছে-এমন দাবি গ্রামবাসীর। যা মনে চায় তাই হাতের কাছে পাওয়ার সুযোগ থাকায় দুই ভাই বেশ উচ্ছৃঙ্খল। দিহান কদাচিৎ গ্রামে আসত। তার মা শিল্পী বেগম দিহানের সঙ্গে ঢাকাতেই থাকেন।

দিহানের বিরুদ্ধে বান্ধবীকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা হওয়ার পার তাদের দুর্গা-পুরের বাড়িটি বাহিরে থেকে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। দিহানের বাবা কোথায় আছেন সেটাও গ্রামের মানুষের জানা নেই।

তবে ফোনে দিহানের বাবা বলেন, তার ছেলের বিষয়ে আইন তার নিজের গতিতে চলবে। বিপুল সম্পদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।